যমুনার সর্বগ্রাসী থাবা শত শত জিও ব্যাগেও রক্ষা পেল না ঢাকা-তারাকান্দি মহাসড়ক, ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হাজারো মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার: এস কে শিপন
প্রশাসনের প্রবল সদিচ্ছা, রাতভর অক্লান্ত পরিশ্রম আর শত শত জিও ব্যাগ ফেলেও শেষ রক্ষা হলো না। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর তীব্র স্রোতের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলো সব প্রতিরোধ। অবশেষে সর্বগ্রাসী যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে ধসে গেছে অতি গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-তারাকান্দি মহাসড়কের একাংশ। মুহূর্তের মধ্যে মহাসড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই যমুনার পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সেই সাথে দেখা দেয় তীব্র ঘূর্ণিস্রোত। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন তড়িঘড়ি করে হাজার হাজার জিও ব্যাগ ফেলে পানির তীব্রতা কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রমত্তা যমুনার বিক্রম এতই বেশি ছিল যে, সেই জিও ব্যাগের বাঁধ মুহূর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নদী। চোখের সামনেই মহাসড়কের পিস ঢালাই রাস্তা ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে দেখেন আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
মহাসড়ক গ্রাস করার পাশাপাশি নদীর এই ভয়াল রূপ এখন গ্রাস করতে চলেছে পুরো জনপদকে। ইতোমধ্যে যমুনার পেটে চলে গেছে শত শত বিঘা ফসলি জমি। সবুজ ধানক্ষেত ও স্বপ্নঘেরা ফসলের মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এক লহমায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শত শত কৃষক।
শুধু ফসলি জমিই নয়, এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী শত শত ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদ্রাসা। যে যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে নিজের আজীবনের জমানো সম্বল—এই আতঙ্কে ভাঙন কবলিত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের চোখে এখন কোনো ঘুম নেই। রাতে একটু শব্দ হলেই আঁতকে উঠছেন গৃহস্থরা। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে গবাদিপশু ও জরুরি আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছরই নদীভাঙন দেখা দিলে সাময়িক উপশম হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান আনে না। মহাসড়ক ধসে পড়ায় একদিকে যেমন ঢাকা ও তারাকান্দির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে পুরো উপজেলার মানচিত্র পরিবর্তন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জিও ব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক সংস্কারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের আকুল দাবি, কেবল সাময়িক জিও ব্যাগ ফেলে বা লোকদেখানো প্রতিরোধ গড়ে এই তাণ্ডব থামানো সম্ভব নয়। বসতভিটা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার আগেই যমুনা নদীতে স্থায়ী ও মজবুত সিসি ব্লকের টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ জাতীয় আরো খবর...