স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সোনালী ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মোবাইল সিম প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে সংযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে প্রতারক চক্র সোনালী ই-ওয়ালেট সক্রিয় করে দুই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করে। ঘটনার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বিয়ের প্রস্তাবের কথা বলে এক ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। পরদিন তিন ব্যক্তি তার বাড়ির কাছে এসে পরিচয় ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেন। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার অজুহাতে তার ব্যবহৃত ফোনটি নিয়ে গোপনে মূল গ্রামীণফোন সিম খুলে অন্য একটি সিম প্রতিস্থাপন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুই দিন পর বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে ব্যবহৃত সিমটি সাময়িকভাবে বন্ধ করেন এবং সোনালী ব্যাংকের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন। পরে ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সোনালী ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে NPSB, BEFTN ও RTGS সেবার মাধ্যমে দুই দিনে মোট ৩৩ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ওই অর্থ ছিল অবসর-পরবর্তী প্রাপ্য সুবিধার সম্পূর্ণ সঞ্চয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দুই দিন আগে প্রতারক চক্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় গিয়ে সোনালী ই-ওয়ালেট নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে একজন ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে ভুক্তভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর ও জন্মতারিখ উপস্থাপন করে ই-ওয়ালেট অনুমোদনের আবেদন করে। পরিবারের দাবি, মোবাইল সিম প্রতিস্থাপনের পর ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাবের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরিবারের অভিযোগ, গ্রাহকের পরিচয়, ছবি, স্বাক্ষর কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই ওই আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়, যার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা হিসাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ স্থানান্তর করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তারা একই ব্যাংকে নতুন করে ই-ওয়ালেট চালুর আবেদন করলে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বাক্ষর ও লিখিত আবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন সময় নিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগী পরিবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত অর্থ উদ্ধারে কিংবা দায়ীদের শনাক্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্তে কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা না থাকার কথা জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন, একজন গ্রাহকের সিম হারিয়ে গেলে কেবল সেই সুযোগে কীভাবে তার ব্যাংক হিসাবের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ অন্য কেউ নিতে পারে এবং ই-ওয়ালেট অনুমোদনের ক্ষেত্রে কেন একই প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন যাচাই-বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, জীবনের সমগ্র কর্মজীবনের সঞ্চয় হারিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক চরম মানসিক ও শারীরিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ জাতীয় আরো খবর...