আশীষ বিশ্বাস
নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার এক বছরের মাথায় আবারো বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের এমন বেহাল দশায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যার আতঙ্কে দিন পার করছেন তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং স্থানীয় বালু সিন্ডিকেটের অবাধে ভারী ট্রলি চলাচলের কারণেই বাঁধটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।নেই কোনো সাইনবোর্ড, অনিয়মের অভিযোগ সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নে বুড়ি তিস্তা নদী খননের পাশাপাশি ঘাটের পাড় থেকে ডাউয়াবাড়ী পর্যন্ত ডান ও বাম তীরের প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। এই বাঁধটি স্থানীয়দের চলাচলের প্রধান পথ হলেও সংস্কারের মাত্র এক বছরের মাথায় এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরে মাটি ধসে গেছে, যা বৃষ্টির তোড়ে যেকোনো সময় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।সংবাদকর্মীদের দেখে কাছে এসে পথচারী আইনুল হক, আশরাফুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সবসময় এই বাঁধের ওপর দিয়েই যাতায়াত করি। কিন্তু বাঁধের কাজ শুরু থেকে শেষ অবধি কোনো প্রকল্প সাইনবোর্ড আমাদের চোখে পড়েনি।” সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের কারণেই এই অবকাঠামো টেকসই হয়নি বলে দাবি করেন তারা।মরার ওপর খাঁড়ার ঘা ‘বালু সিন্ডিকেট’স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ভঙ্গুর দশার ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট। তারা বাঁধের তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এবং দিন-রাত অবাধে ভারী ট্রলি (ট্রাক্টর) চলাচলের ফলে বাঁধের ওপর বিশাল গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদ করেও এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।কলোনি পাড়া এলাকার বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন, “এমনিতেই বাঁধের অবস্থা নাজুক, তার ওপর এসব ভারী ট্রলি প্রতিনিয়ত চলায় বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি।”মোরশেদুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা জানান, রাস্তাগুলোর অবস্থা বেহাল হওয়ায় হাট-বাজারে যাতায়াত করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অতিরিক্ত ভারবাহী ট্রলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ এই সড়ক ও বাঁধগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।তথ্য দিতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৫ কিলোমিটারের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়। তবে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের মোট ব্যয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও ট্রলি চলাচল বন্ধে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত টেকসই সংস্কার ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার না করলে সামনের বর্ষায় বাঁধটি ভেঙে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর...