কলেজছাত্রকে আটকে রেখে মারধর, মোবাইল-নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ; উদ্ধার iPhone 16 Pro Max ও নগদ ৭ হাজার টাকা
পারভেজ বাঙালী
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা এলাকায় এক কলেজছাত্রকে চাকু ও পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নেওয়া, জোরপূর্বক আটকে রেখে মারধর এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে চাঁদাবাজ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ। অভিযানে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া দুটি মোবাইল ফোনের মধ্যে একটি iPhone 16 Pro Max ও একটি Infinix মোবাইল ফোনসহ নগদ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার বাদী নুর মোহাম্মদ সিফাত চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার সঙ্গে মামলার ১ নম্বর আসামি সামির আহম্মেদের পূর্বপরিচয় ছিল।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সামির আহম্মেদের ডাকে চকবাজার থানাধীন কে.বি. আমান আলী রোডের সালেহ আহম্মেদ বাই লেইন সংলগ্ন মাঠে যান সিফাত। সেখানে সামির আহম্মেদসহ অন্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আসামিরা চাকু ও পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে সিফাতের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে থাকা ২ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আসামিরা সিফাতের প্যান্টের পকেটে একটি সিগারেটের প্যাকেট ঢুকিয়ে দিয়ে তার পকেটে ইয়াবা পাওয়া গেছে—এমন মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। এ অবস্থায় সিফাতের মা এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে সিফাতের ব্যবহৃত নগদ নম্বরে পাঠান। পরে আসামিরা সিফাতের নম্বর থেকে বিভিন্ন নম্বরে ওই টাকা স্থানান্তর করে নেয় বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আরও টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে আসামিরা সিফাতকে ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত জোরপূর্বক আটকে রাখে। এ সময় তার পিঠ, গলা ও মাথায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অতিরিক্ত টাকা না পেয়ে চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে তাকে ভবিষ্যতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চকবাজার থানায় মামলা নম্বর-০৬ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই মো. গিয়াস উদ্দিন সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন।
১৮ সেপ্টেম্বর চকবাজার থানাধীন ওমর আলী মাতব্বর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি সামির আহম্মেদকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আদায় করা চাঁদার ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে সামির আহম্মেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভী পুকুরপাড় এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি মো. আকরাম হোসেন জয়কে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বলপূর্বক নেওয়া একটি Infinix মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য ১১ হাজার ৫০০ টাকা, এবং আদায়কৃত চাঁদার ২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এরপর ১ ও ২ নম্বর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারনামীয় আসামি কাজী মো. রাকিব হোসাইন (২৩) এবং মো. আহনাফুল আলম প্রকাশ আদিবকে (২১) তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, এজাহারনামীয় পলাতক আসামি আবু সুফিয়ান (১৮)-সহ তারা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বলপূর্বক নেওয়া একটি iPhone 16 Pro Max মোবাইল ফোন মো. হাসনাত (২২)-এর কাছে বিক্রি করে দেয়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. হাসনাতকে (২২) চকবাজার থানাধীন বালি আর্কেড মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত ‘আপগ্রেড’ নামের মোবাইল ফোনের দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তার হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বলপূর্বক নেওয়া একটি iPhone 16 Pro Max মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ফোনটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি আবু সুফিয়ানসহ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
এ জাতীয় আরো খবর...