দেবাশিষ কুমার দাস
জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
রানীনগর উপজেলার ছাতারদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষোভ। বিদ্যালয়ের ৬টি শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী মাত্র ১৯ জন হলেও শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা রয়েছে ৫ জন। সংখ্যাগতভাবে শিক্ষক সংকট না থাকলেও পাঠদানে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১১টা পেরিয়ে গেলেও পাঠদান কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি ছিল না। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি থাকলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সময়মতো পাঠদান না হওয়ায় কোমলমতি শিশুদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “শিক্ষক থাকার পরও যদি নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত না হয়, তবে শিক্ষার উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।” তাদের অভিযোগ—বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলার ঘাটতি দিনদিন প্রকট হচ্ছে, অথচ কার্যকর নজরদারি নেই।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এতে পরিস্থিতি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষার মান উন্নয়নে শুধু শিক্ষক নিয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সময়মতো উপস্থিতি, দায়বদ্ধতা ও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বেতনভোগী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব পালনে এমন শৈথিল্য কেন? শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে? শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
এ জাতীয় আরো খবর...