মোঃ আমির হোসাইন ছাদেকী, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণ এবং মাতামুহুরী নদীর পানির উঠানামার কারণে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র ও সিদ্ধান্ত:
বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় ওভারল্যাপিং পরিহার করতে শনিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রাথমিকভাবে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে বসতঘরে পানি প্রবেশ করা আনুমানিক ১ হাজার ৩৩০টি পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৩০ কেজি চাল এবং ১টি শুকনা খাবারের প্যাকেজ দেওয়া হবে। প্যাকেজে থাকবে আলু ২ কেজি, সয়াবিন তেল ১ লিটার, পিঁয়াজ ১ কেজি, মসুর ডাল ৫০০ গ্রাম ও লবণ ৫০ গ্রাম।
আলীকদম সেনাজোনের সহযোগিতায় ত্রাণ-সামগ্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসতঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। রবিবার সকাল থেকে নয়াপাড়া ইউনিয়নের মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
সরকারি-বেসরকারি সহায়তা:
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে এসেছে।
চাল ও নগদ সহায়তা:
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়: ৩০ টন চাল ও নগদ ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ: ১৫ টন চাল
পানবাজার ব্যবসায়ী সমিতি: ৫০ কেজি চাল
শুকনা খাবার প্যাকেজ:
ব্র্যাক: ৪৫০ প্যাকেট
কারিতাস: ৩৫০ প্যাকেট
সনে ইন্টারন্যাশনাল: ১৫০ প্যাকেট
নয়াপাড়া ফ্রেন্ডস সার্কেল: ১০০ প্যাকেট
উপজেলা পরিষদ রাজস্ব তহবিল: ৩০০ প্যাকেট
আশ্রয়কেন্দ্র ও পুনর্বাসন:
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক পেইজে জানানো হয়, গত ৯ জুলাই দুপুর থেকে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারগুলোকে নিয়মিত রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
এছাড়া বর্তমান তালিকায় শুধু বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করা হয়েছে। যাদের কৃষিজমি বা ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তাদের জন্য কৃষি বিভাগের মাধ্যমে আলাদা তালিকা প্রস্তুত করে পরবর্তীতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এ জাতীয় আরো খবর...