ফারিদ খান ইফতি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি,
ইতিহাসের পাতায় অনেক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। মহাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশলের ছায়া যেন আজ নারায়ণগঞ্জ দেওভোগ মাদ্রাসার অস্থিরতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে। অভিজ্ঞ মহল জানেন, কয়েক বছর আগে আমলাপাড়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কাদের সাহেবের বিরুদ্ধে তৎকালীন ছাত্রদের যে গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা দমানোর কৌশল ছিল সুপরিকল্পিত। সাময়িক বহিষ্কার ও কালক্ষেপণের মাধ্যমে আন্দোলনের তেজ কমিয়ে তিনি যেভাবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছিলেন, বর্তমান দেওভোগ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর কর্মকাণ্ডে সেই পুরনো চিত্রই ফুটে উঠছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
নারায়ণগঞ্জের দ্বীনি ঐতিহ্যের সাথে যারা গভীরভাবে পরিচিত, তারা এই ঘটনার সাথে অতীতের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। প্রশ্ন জাগে, ক্ষমতার লড়াইয়ে কি আবারও ছাত্রদের আবেগ ও কোমলমতি ভবিষ্যৎকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে?
আমরা কোনো পক্ষ অবলম্বন করছি না; আমাদের আকুল আকাঙ্ক্ষা কেবল একটিই—দেওবন্দী আদর্শ, নীতি-নৈতিকতা, আমানতদারিতা ও শৃঙ্খলার সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় থাকুক। মাদ্রাসা হোক রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক কলঙ্কমুক্ত এক পবিত্র শিক্ষাঙ্গন। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞানই হবে আগামীর তরুণ প্রজন্মের পাথেয়, যারা জাতিকে দেখাবে সত্য ও ন্যায়ের পথ। কোনো ষড়যন্ত্র বা স্বার্থান্বেষী মহল যেন ছাত্রদের পবিত্র ইলমি সফরকে ব্যাহত করতে না পারে।
পরিশেষে, আমাদের বিনীত আবেদন—ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করুন। সত্য ও ন্যায়ের সাথে অবিচল থেকে, যাদের উদ্দেশ্য স্বচ্ছ ও মহৎ, তাদের পাশে দাঁড়ান। যদি কারো কর্মকাণ্ড বিতর্কিত ও অসংলগ্ন প্রমাণিত হয়, তবে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এবং ইলমে দ্বীনের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। ছাত্ররা আমাদের ভবিষ্যৎ, তাদের আবেগকে পুঁজি করে কোনো খেলা যেন আর না চলে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
এ জাতীয় আরো খবর...