ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান : মোঃ রমজান আলী
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় হৃদয় আহমেদ রাজু (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি নিজেও বেটিংয়ে অংশ নিতেন এবং অন্যদের এতে সহায়তা করতেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার হৃদয় আহমেদ রাজুকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধামদী মোড়লের বিট এলাকার কালামের চায়ের দোকানের পাশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হৃদয় আহমেদ রাজু ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরনিখলা (মোড়লের বিট) এলাকার নুরুল ইসলাম ও মোছা. বেগম আক্তারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় কয়েকজন অনলাইন জুয়াড়ি অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হৃদয় আহমেদ রাজুকে আটক করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, জব্দ করা মোবাইল ফোনে একাধিক অনলাইন বেটিং অ্যাপ ও জুয়ার ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এ সময় ১৬ পাতার স্ক্রিনশটও জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় হৃদয় আহমেদ রাজুসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেন থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। মামলায় হৃদয় ছাড়া এজাহারভুক্ত আরও ১৬ আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৩। জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৬, ১৭ ও ২৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, “অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও এজেন্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ জাতীয় আরো খবর...