পারভেজ বাঙালী।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
চট্টগ্রামের রাউজানে বেড়াতে এসে রাশেদ (৪০) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘ সংলগ্ন একটি বাড়ির উঠান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা লাল মিয়া সাহেব বাড়ির মৃত বদরুদ্দোজার সন্তান। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
তবে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি তাকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, অন্যদিকে পুলিশের ধারণা এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর আগে স্ত্রী বিয়োগের পর থেকে রাশেদ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। জীবিকার তাগিদে কখনো রাজমিস্ত্রি আবার কখনো রঙ মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করা রাশেদ সম্প্রতি রাউজানে তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
রাশেদের চাচা আবদুল মাবুদ ও ফটিকছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা মোরশেদ আলম জানান:
সোমবার দিবাগত রাতে রাশেদ ঘরের বাইরে ছিলেন।
মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় খালাতো বোন রাতে দরজা খোলেননি, তবে বিষয়টি ফটিকছড়িতে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে।
নিহতের মাথায় ও মুখে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের আশঙ্কা, রাতে একা পেয়ে স্থানীয়রা তাকে ডাকাত ভেবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে রাউজান থানা পুলিশ। প্রশাসনের মতে, ঘটনাটি কোনো মারধরের বিষয় নয়, বরং একটি দুর্ঘটনা।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাশেদ উরকিরচরে তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে যান। সে সময় ঘরে কেবল তার খালাতো বোন ও তার জা ছিলেন। রাশেদের মানসিক অবস্থা বেগতিক দেখে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা ঘরের দরজা খোলেননি।
লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্নের ব্যাপারে ওসির ব্যাখ্যা:
"ঘরের সামনে একটি সিঁড়ি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত সেখান থেকে পড়ে গিয়ে মুখে আঘাত পান তিনি এবং রক্তক্ষরণ হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে।"
স্থানীয় সমাজসেবক ও বীমাকর্মী আবুল কাশেম হিরু সকালে উঠানে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর...