পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শিল্পাঞ্চলে এস আলম গ্রুপের একের পর এক উৎপাদন ইউনিটের চিমনি এখন নিভে গেছে। ব্যাংকঋণের সীমাবদ্ধতা, এলসি খুলতে জটিলতা এবং কাঁচামাল সংগ্রহে অচলাবস্থার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ১১টি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিল্পগোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন।
শিল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল না। কাঁচামালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক ইউনিটে সীমিত পরিসরে কাজ চলছিল। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের অব্যাহতির প্রক্রিয়া শেষ করে শুক্রবার থেকে সব ইউনিট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চিনি, স্টিল, কোল্ড রোল্ড শিট, সিমেন্ট, ভোজ্যতেল ও শিল্প ব্যাগ উৎপাদনকারী একাধিক কারখানা। এর মধ্যে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে প্রায় ৭০০ জন স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করতেন। অন্যান্য কারখানাসহ মোট কর্মরত জনবল ছিল প্রায় পাঁচ হাজারের কাছাকাছি।
কারখানার কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকিং সুবিধা আগের মতো না থাকায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়। উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে কারখানা সচল রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে ধাপে ধাপে জনবল কমানোর পর এবার উৎপাদনই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কারখানায় কোনো উৎপাদন হচ্ছে না। এ অবস্থায় কর্মীদের কাজে রাখার সুযোগও নেই।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর এতগুলো উৎপাদন ইউনিট একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের উৎপাদন খাতের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত। এতে শুধু শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নয়, সংশ্লিষ্ট পরিবহন, সরবরাহ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর...