পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় হিজড়া সম্প্রদায়ের নেত্রী মৌসুমি হিজড়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে এক যুবককে মৌসুমির কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হাসান কলোনি এলাকা থেকে মৌসুমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে বিশেষ করে গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আশপাশের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মৌসুমি। এরপর নিজের কক্ষে চলে যান তিনি। সকালে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে পরিচিত কয়েকজন তার কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে খুলশী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তার গলায় চিকন দাগ এবং মুখের এক পাশে কালচে চিহ্ন দেখতে পায়।
মৌসুমি ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি দলের নেতৃত্ব দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে তিনি ‘গুরুমা’ নামে পরিচিত ছিলেন।
খুলশী থানার ওসি মো. আব্দুর রহিম জানান, মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, মৌসুমির মৃত্যুর সঠিক কারণ এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তার গলায় দাগ রয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে একজন যুবককে কক্ষ থেকে বের হতে দেখা গেছে। ফুটেজটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে ওই যুবকের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর...