পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চোরাই ছয়টি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগরী ছাড়াও চট্টগ্রামের মীরসরাই, জোরারগঞ্জ ও নোয়াখালীর সুধারাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের সিআরবি কাঠের বাংলোর সিঁড়ির গোড়ায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান ওরফে সুমন ওরফে আনোয়ার (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মীরসরাই উপজেলার ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের ইছহাক ড্রাইভার হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপরীতে একটি ফার্নিচারের দোকানের সামনে অভিযান চালায় কোতোয়ালী থানা পুলিশের দল। সেখান থেকে মাইনুদ্দিন মুরাদ (২৭) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি পুরোনো হোন্ডা লিভো ১১০ সিসি মোটরসাইকেল ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে মিঠানালা ইউনিয়নের রহমতাবাদ এলাকায় সুলতান পাঠানবাড়ির সামনে একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি পুরোনো ইগনিটর ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
একই দিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে জোরারগঞ্জ থানার ইছাখালী এলাকার হাজী আব্দুল খালেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাহাদাত হোসেন (৩০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি পুরোনো হিরো স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন ৮ নম্বর এওয়াজ বালিয়া ইউনিয়নের মালেকা সমাজের নুরুল আমিনের দোকানের সামনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে আবু হুরায়রা (৩০) নামে চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো ও শনাক্ত করা স্থান থেকে একটি পুরোনো হিরো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল, একটি পুরোনো হোন্ডা ড্রিম নিও মোটরসাইকেল এবং একটি ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন ২ নম্বর দাতপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর কালামিয়া ব্যাপারী বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও একটি পুরোনো ইয়ামাহা সালুটো মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলা ও থানার এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, চক্রটি বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে চট্টগ্রামের মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ এবং নোয়াখালীর সুধারাম এলাকায় মজুত রাখত। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলো চোরাই জেনেও নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা তারা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মোটরসাইকেলগুলো কোথা থেকে চুরি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তারা তথ্য গোপন করেছে।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় ১৪ অক্টোবর একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ৪২ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। পেনাল কোডের ৪১১ ধারায় করা এ মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান ওরফে সুমন ওরফে আনোয়ারের বিরুদ্ধে চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
সিএমপি কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে এসআই নাঈমুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।
এ জাতীয় আরো খবর...