আজঃ 07 September 2026 | সময়ঃ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রেমের টানে চীনা যুবক রূপগঞ্জে বিয়ের আশা দিয়ে আজই বিদায় ভূরুঙ্গামারী বলদিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের রাস্তা অবরোধ ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনায় মানুষের ঢল ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ শহীদ হন সেপ্টেম্বরে১৯৭১ সালে বীরগঞ্জের দেবীপুরে হাঁসখেলার ধুম, পুরোনো ঐতিহ্যের নতুন উচ্ছ্বাস বকশীগঞ্জে মাদক সেবনের অপরাধে ৬ মাসের জেল নওগাঁয় কম্পিউটারে জাল টাকা তৈরির অভিযোগ, ৪৭ হাজার টাকার জাল নোটসহ যুবক গ্রেপ্তার ১ সদরঘাটে ৫১৯ পিস ইয়াবা ও ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার, নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পটিয়ায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি: বিসিআইসি ডিলারকে জরিমানা বাতাকান্দি আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজীবন দাতা সদস্য হলেন সৈয়দা শারমিন আক্তার জীবনের বিনিময়ে হলেও স্বাধীনতা-গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সোবহানীয়া মাদ্রাসায় প্রবাসীর ১২ টেবিল উপহার, উন্নয়নে বিএনপি নেতার ৫ হাজার টাকা অনুদান চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও রত্না আমিন হাওলাদার নওগাঁয় পুলিশ লাইন্সে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মাছের পোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তারেক রহমানের সরকার শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন নলডাঙ্গায় হুইপ দুলু চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত আরও ৫৩ জন মৌসুমির মৃত্যুতে নতুন সূত্র, সিসিটিভিতে ঘর থেকে বের হতে দেখা গেল যুবককে নারায়ণগঞ্জে জুলাই যুদ্ধর গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা। নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ আমলে নেননি এস,আই, জাকির হোসেন। ভুয়া পুলিশ ও সোর্স ‘আতুর মাসুদ’ চক্রের খপ্পরে বন্দরবাসী: হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ শহীদ হন সেপ্টেম্বরে১৯৭১ সালে

দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি 24 ডেস্ক
ছবির ক্যাপশন: দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪

কফিলুর রহমান(বিভাগীয় প্রধান, রংপুর):

১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে নূর মোহাম্মদ শেখ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ, মাতা জেন্নাতুন্নেসা। অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারান ফলে শৈশবেই ডানপিটে হয়ে পড়েন। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণীর পর আর পড়াশোনা করেননি। কৈশোরে তিনি নাটক থিয়েটার ইত্যাদি খুব পছন্দ করতেন।  ১৯৫২ সালে নিজ গ্রামেরই সম্পন্ন কৃষক ঘরের মেয়ে তোতাল বিবিকে বিয়ে করেন। তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর এবং স্ত্রী তোতাল বিবির বয়স মাত্র ১২ বছর। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। ১৯৫৪ সালের শেষ দিকে তার প্রথম সন্তান হাসিনা খাতুন,এবং ১৯৬৪ সালের ১৫ নভেম্বর তার দ্বিতীয় সন্তান শেখ মো. গোলাম মোস্তফা জন্মগ্রহণ করেন।

যুবক নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৫৯-এর ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআর-এ যোগদান করেন।. দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই নূর মোহাম্মদকে দিনাজপুর থেকে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান করেন। যুদ্ধ চলাকালীন যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদা'র নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।

গোয়ালহাটির যুদ্ধ: ১৯৭১-এর ৫ সেপ্টেম্বর ছুটিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যূহের সামনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচ জনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পেট্রোলটি তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হয়। তবু পেট্রোলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। এক সময়ে সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদ নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন এবং হাতের এল.এম.জি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে শত্রুপক্ষ পশ্চাৎপসরণ করতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই শত্রুর মর্টারের একটি গোলা এসে লাগে তার ডান কাঁধে যাতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

শত্রুর গোলায় ধরাশয়ী হওয়া মাত্র আহত নান্নু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন নূর মোহাম্মদ শেখ। হাতের এল.এম.জি সিপাহী মোস্তফাকে দিয়ে নান্নু মিয়াকে নিয়ে যেতে বললেন এবং মোস্তফার রাইফেল চেয়ে নিলেন যতক্ষণ না ওঁরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে সক্ষম হন ততক্ষণ ঐ রাইফেল চালিয়ে দিয়ে শত্রুসৈন্যের অগ্রসারতা ঠেকিয়ে রাখবেন এবং শত্রুর মনোযোগ তার দিকেই কেন্দ্রীভুত করে রাখবেন এই মানসে। অন্য সঙ্গীরা অনুরোধ করলেন তাদের সাথে যাওয়ার জন্যে। কিন্তু তাকে বহন করে নিয়ে যেতে গেলে সবাই মারা পড়বে এই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হলেন না। বাকিদের অধিনায়োকোচিত আদেশ দিলেন তাকে রেখে চলে যেতে।

শেষ পর্যন্ত তার আদেশ অনুসরণ করে তাকে রেখেই নিরাপদে সরে যেতে পারলেন সহযোদ্ধারা। এদিকে সমানে গুলি ছুড়তে লাগলেন রক্তাক্ত নূর মোহাম্মদ। একদিকে পাকিস্তানী সশস্ত্রবাহিনী, সঙ্গে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক (ই.পি.আর.) যাঁর সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী বীর যোদ্ধাকে বেয়নেট চার্জ করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে এবং মস্তক বিদীর্ন করে ঘিলু ছড়িয়ে ফেলে। পরে সহযোগী সৈনিকেরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন...

এ জাতীয় আরো খবর...
---------------------------------------------------------------------
বিজ্ঞাপন ৯ Whats-App-Image-2025-09-28-at-21-25-44-b187979f
---------------------------------------------------------------------
বিজ্ঞাপন ২ received-874219331633485
---------------------------------------------------------------------
৩ বিজ্ঞাপন Whats-App-Image-2025-09-28-at-21-25-46-e841052a