কফিলুর রহমান,ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় মাঠজুড়ে এখন পাঁকা ধানের সোনালী সমারোহ।
তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের মাঝেও কৃষকদের চোখে-মুখে স্পষ্ট হতাশা। সময়মতো ধান কাটতে না পারায় দিনমজুর সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের জমি ইতোমধ্যে পেঁকে গেছে। কিন্তু স্থানীয় শ্রমিকের অভাব এবং অতিরিক্ত মজুরির কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। এতে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের কৃষক আমিন ডাক্তার, আঃ রহিম, রফিকুল ইসলাম, জোবায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও ধান কাটার মৌসুমে পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক শ্রমিক অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে চলে যাওয়ায় এবং মিশুক ও অটো রিক্সা চালানোর কারনে স্থানীয়ভাবে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে যারা কাজ করছেন তারা প্রতিদিন ৮০০/=থেকে ১০০০/= টাকা পর্যন্ত মজুরি দাবিতে মাঠে কাজ করছেনকরছেন।
এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন গুলোতেও। উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, ধান উৎপাদনে সার, সেচ ও কীটনাশকের খরচ আগেই বেড়েছে। এখন ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ধান ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাদের।
উপজেলার শিলখুড়ি, পাথরডুবি,তিলাই চর- ভুরুঙ্গামারী, বঙ্গ সোনা হাট, এলাকা ঘুড়ে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। ধানের দামে মাত্র ৭৫০/= থেকে ৮০০/= টাকা মন। সকল খরচ একত্রে হিসেব করে যে ধান উৎপাদন হচ্ছে তা স্থানীয় বাজারে যে ধানের দাম আছে সে হিসেবে বিক্রি করলে খরচ উঠবে না লাভ তো দূরের কথা।
স্থানীয় কৃষি কাজে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তা ও কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার মহোদয় জানান, এবছর ইরি ধান রোপনের ১৬৪৮৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ৫০% ধান কর্তন করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিপাতের কারনে অনেক কৃষক ধান কর্তন করতে পারেনাই।
১৮টি কম্বো হারভেস্টার আমাদের উপজেলায় আছে। যদি লেবারের সংকট থাকে, কেহ আগ্রহ প্রকাশ করে তাহলে যোগাযোগ করে নিয়ে ধান কর্তন করতে পারেন।
কৃষকদের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় যান্ত্রিকভাবে ধান কাটার কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় যেহেতু বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে আছে। আবহাওয়া প্রতিকূলে যাওয়ার আগেই যতদূত সম্ভব ধান কাটাই- ঝারাই করে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা পেট্রোল পাম্পে যোগাযোগ করে বলেছি আমাদের হারভেস্টার ইরিগেশন পাম্প এবং ধান মারাই যন্ত্র গুলোর মালিকদের প্রত্যায়ন দিয়েছি।
যারা তেলের পতন পেয়েছে তাদেরকে দ্রুততম সময়ে তেল সরবরাহ করতে হবে ।
কৃষকদের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় যান্ত্রিকভাবে ধান কাটার কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর...