নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার বাসিন্দা ও যুবলীগ সংগঠক মানিক খানকে ঘিরে আবারও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পার-নওগাঁসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তার প্রভাব ছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
গত ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক খানকে এলাকায় প্রকাশ্যে তেমন দেখা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের প্রায় দুই মাস পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে ডিস ব্যবসা চালু ছিল। পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তার আগের প্রভাব অনেকটাই কমে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং নওগাঁ জেলা বিএনপির ১ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক নূর-ই আলম মিঠুর সঙ্গে মানিক খানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। তিনজনেরই একই এলাকায় বসবাস হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এর মধ্যে গতকাল সকালে হঠাৎ নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন মানিক খান। পরে তার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিল থেকে **“শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে”** স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে যুবলীগ স্কোয়াড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, সরকার আওয়ামী লীগকে **নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন** হিসেবে ঘোষণা করেছে। এমন রাজনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির মধ্যেই নওগাঁয় যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রকাশ্য এ কর্মসূচির ঘটনা স্থানীয়ভাবে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশ নেতাকর্মীর মুখে মাস্ক দেখা যায়। এ কারণে অংশগ্রহণকারীদের সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে মিছিলে উপস্থিত দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
স্বল্প সময়ের এই কর্মসূচির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাংশ মিছিলটিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও দলের আরেক অংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তাদের কয়েকজনের মতে, সামনে ডিসেম্বর পর্যন্ত এখনও প্রায় তিন মাস সময় রয়েছে। এ সময়ে প্রকাশ্যে শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত করা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, মানিক খানের নেতৃত্বে হঠাৎ এই কর্মসূচি এবং এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর অংশগ্রহণকে ঘিরে নওগাঁর রাজনৈতিক মহলে এখন নানা আলোচনা চলছে। কর্মসূচিটির পেছনে কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না, নাকি এটি স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগ—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে কর্মসূচি আয়োজনের উদ্দেশ্য, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এবং এর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে মানিক খান বা সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এ জাতীয় আরো খবর...