*ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:*
ঘাটাইল উপজেলার মীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খালেদা খাতুনের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই নারী অন্যের দাখিল সনদ ব্যবহার করে বিগত ১২ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
*অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে এসেছে:*
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খালেদার বাবার নাম মজিবর রহমান এবং মায়ের নাম উদয় ভানু। তার স্থায়ী ঠিকানা ঘাটাইলের সরাবাড়ি গ্রামে। তিনি স্থানীয় দেওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। কিন্তু এসএসসি পাশের কোনো রেকর্ড তার নেই।
২০০১ সালে মীরপাড়া বিদ্যালয়টি বেসরকারি থাকাকালীন তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে চাকরি স্থায়ী করার জন্য তিনি প্রতারণার আশ্রয় নেন।
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ছিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৭ সালের "রেখা" নামের একটি দাখিল পাশের সনদ সংগ্রহ করে নিজের নামে চালিয়ে দেন। ওই সনদে পিতার নাম মোজাম্মেল ও মাতার নাম রাহেলা খাতুন।
পরবর্তীতে ওই জাল সনদের আলোকে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রও সংশোধন করেন তিনি।
*মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যা বলছে:*
এ বিষয়ে সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে ২০০৭ সালের দাখিল পরীক্ষার টেব্যুলেশন শিট যাচাই করা হয়। সেখানে "রেখা, পিতা-মোজাম্মেল, মাতা-রাহেলা" নামে সনদটি সঠিক পাওয়া যায়। বর্তমান প্রিন্সিপাল নুরুজ্জামান জানান, ওই সময়ের প্রিন্সিপাল ছিলেন আশরাফ আলী।
এদিকে খালেদার মা উদয় ভানু নিজেই স্বীকার করেছেন যে তার মেয়ে কখনো মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেনি।
*অভিযুক্তের বক্তব্য:*
এ বিষয়ে খালেদার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি চৌহালীর খাষকাউলিয়া মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষা দিয়েছি। আমার এনআইডিতে মায়ের নাম ভুল ছিল, সংশোধন করেছি।"
*এলাকাবাসীর দাবি:*
এমন ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তপূর্বক দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
#টাঙ্গাইল #ঘাটাইল #প্রাথমিক_শিক্ষা #জাল_সনদ #দুর্নীতি
এ জাতীয় আরো খবর...