পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকায় যাত্রীদের পথরোধ করে ছিনতাই ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও দুটি ছোরা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৭ আগস্ট রাত ১১টার দিকে কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে মো. রিদোয়ান (২৫) তার ছোট ভাই রিফাতুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশাযোগে বাকলিয়ার নতুন ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাশে ব্রিজের শেষ মুখে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি ছোরা নিয়ে তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে।
এ সময় ছিনতাইকারীরা রিদোয়ানের কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ ২ হাজার ১০০ টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের ভিসা কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, চাবির গোছা এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তার ভাইয়ের কাছ থেকেও একটি মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার, টেবিল লাইট ও পোশাকসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীরা বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাদের মারধর করে। একপর্যায়ে মো. আরফান ওরফে ইরফান (২৪) ছোরা দিয়ে রিফাতুল ইসলামের বাম পায়ের উরু ও বাম হাতের মধ্যম আঙুলে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ছিনতাইকারীরা লুট করা মালামাল নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন ৮ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ছিনতাইকারীরা ভুক্তভোগীর ইস্টার্ন ব্যাংকের হিসাব থেকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভিসা কার্ড ব্যবহার করে কৌশলে আরও ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা উত্তোলন করে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত মো. আরমান (২৯), মো. আরফান ওরফে ইরফান (২৪), মো. করিম ওরফে পঞ্চ (২১), মো. রাকিব (১৯) ও গোলাম হোসেন (৩৮)কে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে নতুন ব্রিজ ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় স্থানীয় লোকজন কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ছোরা ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার পুরাতন রেলস্টেশন এলাকা থেকে মো. রাকিবকে আটক করা হয়। তার হেফাজত থেকে ভুক্তভোগী ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মো. আরমান পুলিশকে জানান, টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত সিম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভিসা কার্ড তাকে গোলাম হোসেন দিয়েছিলেন। পরে সদরঘাট থানার মাদারবাড়ী রেলগেট এলাকা থেকে গোলাম হোসেনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভুক্তভোগীর হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানায় ৯ আগস্ট একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ও ৪১১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উদ্ধার করা আলামত জব্দ করা হয়েছে। পরে তাদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর...