পারভেজ বাঙালী।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন হিলভিউ আবাসিক এলাকায় এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসায় সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ গলিত স্বর্ণালংকার, রুপা, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো: খোরশেদ (৩০) ও ইসমাইল হোসেন (৩৮)। বর্তমানে তারা খুলশী থানার আমবাগান নালাপাড়া ছিন্নমূল কলোনিতে বসবাস করছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে হিলভিউ আবাসিক এলাকার ‘নাহার ভিলা’র তিনটি ফ্ল্যাটে (এ/১, বি/১ ও সি/১) জানালার রড ভেঙে চোর চক্র প্রবেশ করে। ফ্ল্যাটগুলোর মালিক বিশিষ্ট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী। রাত আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় তাঁর সাড়ে চার বছরের কন্যা শিশু জারিকা ইমানী বিনতে ইউসুফ বাসার ভেতরে অপরিচিত লোক দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে।
শিশুর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা জেগে উঠলে চোর চক্রটি পালিয়ে যায়। পরে দেখা যায়, চোরেরা আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, হিরের আংটি, রুপার কয়েন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে। এই ঘটনায় গত ১০ জুন পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-০৮, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়।
মামলা রুজুর পর পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে এসআই মো. রিয়াদ উছ সালেহীন, এসআই আল-امین খান ও এসআই শওকত ইমামসহ পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে।
গত ১৫ জুন রাত ২৩:০০ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন মীরেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মো: খোরশেদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাইকৃত ১টি অপ্পো এবং ১টি সিম্ফনি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
খোরশেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ১৬ জুন সকাল ০৮:১৫ ঘটিকার সময় মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানাধীন কোনাগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম হোতা ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১৬ জুন রাতে কোতোয়ালী থানাধীন একটি স্বর্ণের দোকানে অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত স্বর্ণ গলানো অবস্থায় ০৪ ভরি ০৯ আনা গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে একই রাত ২৩:৪৫ ঘটিকার সময় আসামিদের বর্তমান ঠিকানা— খুলশী থানার আমবাগান নালাপাড়া ছিন্নমূল কলোনির বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়:
রুপার কয়েন: ০৩ ভরি ১৫ আনা
রুপার চেইন: ০১ ভরি ১০ আনা
রুপার নূপুর: ০৩ ভরি ১০ আনা
লেডিস পার্স ব্যাগ: ০২টি
নগদ টাকা: ৮৫,০০০/- (পঁচাশি হাজার) টাকা
পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতার এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর...