পারভেজ বাঙালী
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে বাদীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে মো. মোজাম্মেল হক ওরফে কবির (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম জেলা। তাঁর কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর ও মামলার তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন মোজাম্মেল। কখনো পিবিআই, কখনো সিআইডি বা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। এরপর গাড়ি ভাড়া ও তদন্তের খরচের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা নিতেন।
এ ঘটনায় পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই (নিঃ) মো. আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে দণ্ডবিধির ১৭০, ৪১৯, ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। মামলা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকা থেকে মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোজাম্মেল একসময় ইউনিলিভার গ্রুপে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাকরি চলে গেলে তিনি আদালতে যাতায়াত শুরু করেন এবং মহুরী হিসেবে কাজ করতেন। এ সময় আদালত থেকে বিভিন্ন মামলার তথ্য, বাদী-বাদিনীর মোবাইল নম্বর ও মামলার আরজির কপি সংগ্রহ করতেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে মোজাম্মেল বিভিন্ন মামলার বাদীদের ফোন করতেন। নিজেকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তাঁদের পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। পরে গাড়ি ভাড়া ও তদন্তের খরচের কথা বলে টাকা নিতেন।
এই মামলার ক্ষেত্রেও এক বাদীকে ফোন করে নিজেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দেন মোজাম্মেল। তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়ি ভাড়া ও তদন্ত খরচ বাবদ বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, মোজাম্মেলের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং একই কৌশলে আরও কোনো মামলার বাদীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...