নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি মোঃ রাফি হোসেন
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে মহাসড়কে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর দস্যুতার ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে কুখ্যাত দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া মামলার এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে মহাদেবপুর থানাধীন নওহাটা-মহাদেবপুর সড়কের একটি নির্জন স্থানে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রাইভেটকার ব্যবহার করে পুলিশের প্রতিফলক (রিফ্লেক্টিভ) ভেস্ট পরে এবং লেজার লাইটের মাধ্যমে সংকেত দিয়ে একটি অটোরিকশা থামায়। পরে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রীকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে তাদের চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। এ সময় দলের অপর সদস্য অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যায়।
এরপর ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী এলাকায় তাদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশে মহাদেবপুর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ডাকাত চক্রের অন্যতম হোতা আব্দুর রহমান ওরফে শাওন ওরফে স্বাধীন (পিতা: আজাদুল, গ্রাম: শিমুলবাড়ি, থানা: ধুনট, জেলা: বগুড়া)-কে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় অভিযান পরিচালনা করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর আব্দুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে জেলা গোয়েন্দা শাখা ব্যাপক অভিযান শুরু করে।
পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও দুই সদস্য খোকন চন্দ্র (৩৩), পিতা: মানিক চন্দ্র, গ্রাম: বড় বেলাইল হিন্দুপাড়া, জেলা: বগুড়া এবং শুভ (২৮), পিতা: মহিউদ্দিন, গ্রাম: আমবাগ জয়েরটেক, থানা: কোনাবাড়ী, জেলা: গাজীপুরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর গত ১১ জুলাই ২০২৬ রাতে গাজীপুর থেকে কুখ্যাত এই দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় জেলা গোয়েন্দা শাখা।
গ্রেফতারের পর তাদের জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে মহাদেবপুর মহাসড়কে সংঘটিত দস্যুতার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। এছাড়া আসামি খোকন চন্দ্র বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে
এ জাতীয় আরো খবর...