স্পোর্টস ডেস্ক:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় থ্রি লায়ন্সরা। তৃতীয় মিনিটেই ডেকলান রাইসের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৯ মিনিটে এজরি কনসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে বুকায়ো সাকার জোড়া গোলে (৩৭ ও ৪৫+১ মিনিট) ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ফ্রান্সকে দেখা যায় মাঠে। ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। মাত্র ছয় মিনিট পর ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ফরাসিরা। ৬৭ মিনিটে এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৩, যা ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
তবে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে জেড স্পেন্সকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে সফলভাবে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। এতে ইংল্যান্ড ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলে আবারও ব্যবধান কমায় ফ্রান্স। কিন্তু নাটকীয়তার শেষটা লেখেন বদলি খেলোয়াড় জুড বেলিংহ্যাম। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে গোল করে ইংল্যান্ডের ৬-৪ গোলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
ম্যাচটিতে দুটি গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি আবারও শীর্ষ অবস্থান শক্ত করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছেন এই ফরাসি তারকা। অন্যদিকে মাইকেল অলিসের দুটি অ্যাসিস্ট ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তোলে।
প্রথমার্ধে ছন্দহীন ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের সামনে তাদের সেই লড়াই সফল হয়নি। টমাস টুখেলের কৌশলগত পরিবর্তন এবং তরুণ ফুটবলারদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
১০ গোলের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেবে।
এ জাতীয় আরো খবর...