কফিলুর রহমান (বিভাগীয় প্রধান, রংপুর):
গাইবান্ধায় পাটের মৌসুমের শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে পাটের বাজার।চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে পাটের ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক নদীবন্দরগুলোর একটি কামারজানী, যা গাইবান্ধার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদ তীরে অবস্থিত।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্যবাহী হাটটি কৃষি পণ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয় পাটের সোনালী দ্যুতি।
পাটের মৌসুম শেষের দিকে পৌঁছানোর সাথে সাথে ব্রহ্মপুত্রের পাড় বাংলাদেশের সোনালী আঁশের এক প্রাণবন্ত বাজারে পরিণত হয়েছে।
এ মৌসুমে নদী ভাঙনের নিরন্তর হুমকি সত্ত্বেও, এই অঞ্চলের চরাঞ্চলগুলোতে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পলিমাটির উর্বরতায় চরের এই জমিগুলো পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় উচ্চ ফলন এবং উন্নত মানের পাট উপহার দিয়েছে।
কামারজানী হাটে পাট নিয়ে আসা কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বাজার কিছুটা মন্দা থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চাহিদা ও দাম উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর, দূরবর্তী চরাঞ্চলের এই প্রান্তিক কৃষকদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।তাহলে এই মৌসুমের পাটের বাজার নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কী বলছেন?আসুন সরাসরি তাদের থেকেই শুনে নেওয়া যাক।
প্রতি হাটের দিনে কামারজানী থেকে নদী ও সড়কপথে হাজার হাজার মণ পাট দেশের প্রধান প্রধান পাটকলগুলোতে পরিবাহিত হয়।চরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম এবং ব্যবসায়ীদের নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা পুরো কামারজানী হাটকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, চরের উর্বর মাটি এবং এই নদীবন্দরের পরিবহন সুবিধা কামারজানীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাট বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে তার ঐতিহাসিক পরিচিতি ফিরে পেতে সাহায্য করছে।
মৌসুমের শেষভাগে কামারজানীর এই কর্মব্যস্ত দৃশ্য মনে করিয়ে দেয় যে—ন্যায্য মূল্য এবং ভালো ফলন পেলে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ এখনও তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রাখে।
এ জাতীয় আরো খবর...