মোঃ আবদুল মোতালেব
জেলা প্রতিনিধি - নোয়াখালী:
নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার দক্ষিণ অর্জুনতলা এলাকায় পৈত্রিক ও দখলীয় সম্পত্তিতে বাউন্ডারি দেয়াল নি র্মাণে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হামলার আশঙ্কার অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. সাব্বির হোসেন (২৫) দক্ষিণ অর্জুনতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামে লেখাপড়া করছেন। লিখিত অভিযোগে তার মা নিলুফা বেগমসহ স্থানীয় দুই প্রতিবেশীকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈত্রিক ও দখলীয় বসতভিটার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি। বরং বিভিন্ন সময় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সম্পত্তি জবরদখলের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ জুন ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযোগকারী পক্ষ তাদের দখলীয় জমিতে টিনের বাউন্ডারি খুলে ইটের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে এসে কাজে বাধা দেন। এ সময় তারা লাঠিসোটা নিয়ে মারধরের হুমকি দেন এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী দাবি করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে পুনরায় বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তদের মারমুখী আচরণের কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে হামলার আশঙ্কা রয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগকারী সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
এদিকে, অভিযোগকারী মো. সাব্বির হোসেনের দাবি, গত ৭ জুলাই প্রতিপক্ষ মো. জহিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও সাজানো মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সেনবাগ থানা পুলিশ তাকে আটক করে ০৪/৯৪ নম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে। পরে একই দিন তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সেনবাগ পৌর শহরের একটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মো. সাব্বির হোসেন মাসুম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে মো: আবদুল হান্নানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়, তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন মো. সাব্বির হোসেন মাসুম পারলে আরো কিছু করুক।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তসাপেক্ষ।
এ জাতীয় আরো খবর...