স্টাফ রিপোর্টার : এস কে শিপন
শনিবার, ২১ জুন, ২০২৬
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পূর্ব শত্রুতা বা আকস্মিক বিরোধের জেরে বেলাল হোসেন (৪৫) নামে এক রডমিস্ত্রিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের কালি মন্দির রোডের জলধারা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা হামলাকারী যুবক জিসানকে (২২) হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনা যেভাবে ঘটল
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত বেলাল হোসেন পৌরসভার সূতি পূর্বপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রডমিস্ত্রী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সুন্দর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বেলাল হোসেন একা একা পৌর শহরের কালি মন্দির রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন। জলধারা আবাসিক এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে উত্তর গোপালপুর মহল্লার বাসিন্দা জিসান হঠাৎ লোহার রড নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জিসান বেলাল হোসেনের মাথায় লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে যান।
হামলাকারীকে গণপিটুনি ও পুলিশি হেফাজত
বেলালের চিৎকার ও হামলার নৃশংসতা দেখে আশেপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঘাতক জিসান পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে গোপালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত জিসানকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শোকের ছায়া ও আইনি প্রক্রিয়া
এদিকে গুরুতর আহত বেলাল হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও সুন্দর গ্রামের বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
গোপালপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই জোর তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশের বক্তব্যে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে এবং সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গোপালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা (এজাহার) দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধী যেই হোকআইন
অনুযায়ী কঠোর
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ জাতীয় আরো খবর...