নওগাঁ রাণীনগরে ওসির নির্দেশ বর্জন করে , জমি দখল নিয়ে ‘রক্তের বন্যা’ বইয়ে দেওয়ার হুমকি; এসপির হস্তক্ষেপ কামনা
নওগাঁ জেলা বিশেষ প্রতিনিধিঃ মোঃ রাফি হোসেন
নওগাঁর রাণীনগরে বোন মিলি বিবির ক্রয়কৃত জমি দখল, পুলিশকে গালিগালাজ, থানাকে তোয়াক্কা না করে সালিশি বৈঠক বর্জন এবং প্রকাশ্যে 'রক্তের বন্যা' বইয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই আইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আইন-কানুন ও স্থানীয় মাতবরদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী অসহায় নারী। এই ঘটনায় তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী মিলি বিবি (৫০) জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি প্রথমে গত ৩১/০১/২০২৬ ইং তারিখে রাণীনগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেই অভিযোগের কোনো সুষ্ঠু সমাধান মেলেনি। পরবর্তীতে তিনি আবারও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রাণীনগর থানা থেকে তদন্তের জন্য উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাবিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তদন্তে গেলে জমি দখলকারী আইজুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন উল্টো পুলিশ অফিসারের ওপর চড়াও হন। তাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, হুমকি এবং 'ঘুষখোর' বলে আখ্যা দিয়ে চরম ধৃষ্টতা দেখান। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আইজুল ইসলাম এলাকায় একজন অত্যন্ত বদমেজাজি এবং খারাপ প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি মীমাংসার জন্য গত ১৯/০৬/২০২৬ ইং তারিখ শুক্রবার থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার দিন ধার্য থাকলেও অভিযুক্ত আইজুল ইসলাম থানায় উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে ২৬/০৬/২০২৬ ইং তারিখ শুক্রবার পুনরায় থানায় সালিশি বৈঠক বসে। কিন্তু আইজুল ইসলাম থানার আইন-কানুন ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে কোনো তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখান। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, "ওই জায়গা কে দখল করে আমি তা দেখে নেব।" অথচ কাগজ-কলমে জায়গার প্রকৃত মালিক মিলি বিবি হলেও আইজুল জোরপূর্বক তা দখল করে আছেন। একপর্যায়ে প্রচলিত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সালিশ না মেনে তিনি বৈঠক থেকে উঠে যান এবং হুমকি দিয়ে বলেন, "ওই জায়গায় কেউ গেলে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হবে।"
এদিকে সালিশ বৈঠকে উপস্থিত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ভুক্তভোগী মিলি বিবিকে প্রস্তাব দেন, ২ লক্ষ টাকা দিলে তাঁরা এই ঝামেলার সমাধান করে দেবেন। কিন্তু মিলি বিবি একজন অত্যন্ত অসহায় ও সম্বলহীন নারী হওয়ায় তাঁর পক্ষে এই বিপুল অর্থ দেওয়া বা ক্ষমতার সাথে লড়াই করা সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই, তবে দেশের আইনের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আমি আইনিভাবেই এর সঠিক সমাধান পাব।"
জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ:
উপায়ান্তর না পেয়ে অসহায় মিলি বিবি নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অশ্রুসজল চোখে বলেন, "আমি শুনেছি আপনি সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং অন্যায়কে কখনোই প্রশ্রয় দেন না। আপনার প্রতি আমার আকুল অনুরোধ—আপনি এই অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ান এবং আমার ক্রয়কৃত জায়গাটি উদ্ধারের ব্যবস্থা করে দিন।"
এই ঘটনার পর থেকে রাণীনগরের গহেলাপুর গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একজন অসহায় নারীর ওপর এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে স্থানীয় সচেতন মহল।
এ জাতীয় আরো খবর...