পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এক মৎস্যখামারীর লিজ নেওয়া পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) গভীর রাতে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
রাজনৈতিক শত্রুতা ও আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জঘন্য কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যখামারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়াই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জাকিরের কাছ থেকে লিজ নেওয়া একটি পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও মৎস্যচাষী মোর্শেদুল আলম। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে গত শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরেন। গভীর রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরের সব মাছ ভেসে উঠতে দেখে মোর্শেদুল আলমকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ, বেশ নানা প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ মরে ভেসে উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা ও মৎস্যচাষী মোর্শেদুল আলম প্রায় ৩০-৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি জানান, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মেম্বার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের পর এলাকায় কিছু সুবিধাবাদী লোক দলে ভিড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং তাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।
আবেগপ্লুত কণ্ঠে মোর্শেদুল আলম বলেন,
"আমাকে দুইটা মারতো, কিল-ঘুষি মারতো বা কোপাতো—তাতেও আমার দুঃখ ছিল না! কিন্তু শত্রুতামি করতে গিয়ে কেন এই নিরীহ বোবা প্রাণীগুলোকে বিষ দিয়ে মেরে আমাকে এভাবে নিঃস্ব করল? আমি এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
বিষ পরীক্ষার উদ্যোগ
ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত ধিক্কারজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন,
"এটি অত্যন্ত জঘন্য ও খারাপ একটি কাজ হয়েছে। ঠিক কী ধরনের বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো নিধন করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে পরীক্ষা করে দেখার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হবে।"
এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। পটিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর কচুয়াই ইউনিয়ন জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও অন্যান্য মৎস্যচাষীরা অবিলম্বে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস না পায়।
এ জাতীয় আরো খবর...