পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে জুলাই আন্দোলনের সময় ডবলমুরিং থানা থেকে লুণ্ঠিত দুটি বিদেশি পিস্তল, দুই হাজার পিস ইয়াবা এবং এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) সিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় গত ২৫ জুলাই রাতে ডবলমুরিং মডেল থানার ঝর্ণাপাড়া রেলবিট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মো. আলমগীর (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশ তাকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আটকের পর তার কাছ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা এবং ৯ এমএম টরাস (TAURUS) ব্র্যান্ডের দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পিস্তল দুটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং মডেল থানায় হামলা ও ভাঙচুরের সময় থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে আলমগীরের সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ২৭ রাউন্ড রাবার কার্তুজ নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মোবিনুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ ও ইটপাটকেলের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তাকে তাৎক্ষণিক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর ডবলমুরিং মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, সরকারি কাজে বাধা, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় দুটি মামলা এবং খুলশী থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আলমগীরের বিরুদ্ধে এর আগে ২৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি মাদক, তিনটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এবং বাকি নয়টি বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত মামলা।
এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।
এ জাতীয় আরো খবর...