বন্দর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সরকারি পদের প্রভাব খাটিয়ে আপন চাচাতো ভাইকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, ভাতিজীর শ্লীলতাহানি এবং চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সোলেমান শাহেদ বন্দর থানাধীন পশ্চিম কল্যাণদী এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে এবং বর্তমানে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের প্রধান সহকারী পদে কর্মরত। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী স্যাটেলাইট ক্যাবল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জুম্মান জানান, সোলেমান শাহেদ তার পৈত্রিক ও ভাইয়ের হেবাকৃত জমি দখলের উদ্দেশ্যে সরকারি পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। প্রায় ১৪ বছর আগে তিনি র্যাব দিয়ে জুম্মানকে একটি পরিত্যক্ত অস্ত্র মামলায় চালান দেন। পরবর্তীতে আদালত থেকে জুম্মান নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান। জুম্মান আরও অভিযোগ করেন, তিনি যখন জেলে ছিলেন, তখন তার প্যারালাইসিসগ্রস্ত বাবা রাজা মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে টিপসই নেওয়া হয় এবং তার শিশুকন্যাকে শ্লীলতাহানি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় গুন্ডাবাহিনী দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে।
জুম্মানের দাবি, কাস্টমসের চাকরি সুবাদে সোলেমান শাহেদ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। সাবেক রাজমিস্ত্রির সহকারী বাবাকে রফতানি-আমদানি ব্যবসায়ী সাজিয়ে বিকেএমইএ ও চেম্বার অব কমার্সের সদস্য করা এবং সিদ্ধিরগঞ্জে বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ আড়ালের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সোলেমান শাহেদ জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। সিদ্ধিরগঞ্জে তাদের কোনো জমি বা ভবন নেই। তার পিতা একজন বৈধ করদাতা ও ব্যবসায়ী। জুম্মানকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে জুম্মান তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নানা মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়, যা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নির্দেশ করে না। তিনি কাস্টমস কর্মকর্তা সোলেমান শাহেদের দুর্নীতি তদন্ত এবং সকল ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ জাতীয় আরো খবর...