পারভেজ বাঙালী,চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
দেশের আমদানি-রপ্তানির অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পোর্ট কানেক্টিং রোড। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, কাভারভ্যান, কনটেইনারবাহী ট্রেইলার এবং সাধারণ যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিমতলা বিশ্বরোড থেকে অলংকার পর্যন্ত অংশ এখন যেন এক দীর্ঘ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের জন্য বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করা হলেও কাজ শেষে সড়ক যথাযথভাবে পুনঃসংস্কার করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। কোথায় গর্ত, কোথায় সমতল—তা বোঝার উপায় থাকে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন চালক ও পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েক মাসে এই সড়কে একাধিক ট্রলি, ট্রাক ও পণ্যবাহী যান গর্তে পড়ে ভারসাম্য হারিয়েছে। অনেক সময় যানবাহন উল্টে গিয়ে দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও যেকোনো সময় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলভার বেলস গার্লস স্কুল, সিগনাস, তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসা, ক্যাম্বিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ, রেলওয়ে সল্টঘোলা স্কুল, শাপলা কুড়ি স্কুল, চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল, সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রতিনিয়ত এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করছেন। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, স্কুলবাস কিংবা রিকশায় শিশুদের নিয়ে চলাচলের সময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে অভিভাবকদের।
পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানির পণ্য পরিবহন হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে পণ্য পরিবহনেও বিলম্ব হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে খোঁড়াখুঁড়ির পর কেন সময়মতো টেকসইভাবে সংস্কার করা হলো না? কাজ শেষ হওয়ার পর সড়ক পুনর্বাসনের দায়িত্ব কার—ওয়াসা, ঠিকাদার নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর জানতে চান তারা।
এলাকাবাসী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা জরুরি।
তাদের ভাষায়, "কোনো বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটার পর নয়, তার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারণ এই সড়ক শুধু চট্টগ্রামের নয়, দেশের অর্থনীতিরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন।"
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। এখন দেখার বিষয়, নাগরিকদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এ জাতীয় আরো খবর...