চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মহানগর হোটেল রেস্টুরেন্ট শ্রমিক দলের উদ্যোগে সরকারবিরোধী সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন, ত্যাগী নেতাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং দলীয় পদ-পদবি বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এ সময় মহানগর শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীসহ সাধারণ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন মাছুম ভূঁইয়া। তিনি হালিশহর থানা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বক্তব্যে মাছুম ভূঁইয়া বলেন, দলের অভ্যন্তরে চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই সাংগঠনিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। দলের বিভিন্ন স্তরে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেককেই বর্তমানে দলীয় নেতাদের আশপাশে দেখা যায় না। তারা কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন, তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মাছুম ভূঁইয়া আরও বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থেকে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে নতুনদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জায়গা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে পদ-পদবি বণ্টন করা হলে তা দলের জন্য ক্ষতিকর হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবহেলা এবং বঞ্চিত করার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁদের আর পাওয়া নাও যেতে পারে। এতে দল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, এই দল জনগণের দল এবং নির্যাতিত-নিপীড়িত তৃণমূল নেতাকর্মীদের দল। কোনো একক ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছায় দল পরিচালিত হওয়া কিংবা পদ-পদবি বাণিজ্যের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত নয়।
দলকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে মাছুম ভূঁইয়া বলেন, এখনো সময় আছে—দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় থেকে কেউ মুক্ত থাকতে পারবেন না।
সমাবেশে তাঁর বক্তব্যের মূল দাবি ছিল—দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, ত্যাগী নেতাদের পাশে দাঁড়ানো এবং দলীয় পদ-পদবি বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এ জাতীয় আরো খবর...