মোঃ রাফি হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাটে করলা খেতে ছাগল প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল কাশেম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পক্ষের আরও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর হত্যা মামলা দায়ের হলে রাতভর অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধামইরহাট উপজেলার ৬ নম্বর জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) এলাকায় করলা খেতে ছাগল প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় আবুল কাশেম ও রনিদের পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আবুল কাশেমের পক্ষের পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেমের মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রীও গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত অন্যরা জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর নিহত আবুল কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। নওগাঁর পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। পরে ধামইরহাট উপজেলা এবং পাশের জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রাকিবুল ইসলাম রনি (২৮), মো. আবদুল হাকিম (৬০), মো. কফিল উদ্দিন (৬৫), মোসা. আকলিমা বেগম (৩৫), মোসা. হামিদা বেগম (৩৮), মোসা. ফরিদা বেগম (৫০) ও মোসা. জিয়াসমিন বেগম (২১)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রাকিবুল ইসলাম রনি মো. আবদুল হাকিমের ছেলে, আবদুল হাকিম মৃত আবদুল গফুরের ছেলে এবং কফিল উদ্দিনও মৃত আবদুল গফুরের ছেলে। আকলিমা বেগমের স্বামী মো. ফেরদৌস হোসেন, হামিদা বেগমের বাবা মৃত ইসমাইল হোসেন, ফরিদা বেগমের স্বামী মো. আবদুল হাকিম এবং জিয়াসমিন বেগমের স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম রনি। গ্রেপ্তার সবাই ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে ছাগল করলা খেতে যাওয়ার বিষয়টির পাশাপাশি পূর্বের কোনো বিরোধ বা শত্রুতা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, একটি ছাগল করলা খেতে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা শেষ পর্যন্ত প্রাণহানিতে গড়ানোয় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ যেন সংঘর্ষ বা প্রাণহানির ঘটনায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। আইন নিজের হাতে না নিয়ে যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...