নেত্রকোণা প্রতিনিধি
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক কওমি মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভয়াবহ এ ঘটনায় শিশুটি বর্তমানে প্রায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শিশুটির বর্ণনা অনুসারে, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে মসজিদের বারান্দায় ও মাদরাসার রুমে একা পেয়ে নির্যাতন করতেন। প্রথমে আদর ও টাকা দিয়ে আকৃষ্ট করা হতো। পরে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হতো। শিশুটি বলেছে, “তিনি আমাকে কোলে বসিয়ে বিভিন্নভাবে আদর করতেন এবং টাকা দিতেন। আমি না চাইলেও জোর করে দিতেন। মুখ চেপে ধরে নির্যাতন চালাতেন।”
ঘটনার বিবরণ
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় হযরত ফাতেমাতুজ জোহরা (রা.) কওমি মহিলা মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক ছিলেন এবং পাশের মসজিদে ইমামতিও করতেন। মাদরাসা ও মসজিদের মাঝে খুব অল্প দূরত্ব। শিশুটিকে মাদরাসা থেকে ছুটির পর মসজিদের রুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ!
শিশুটি আরও জানিয়েছে, একইভাবে তার সহপাঠী আরেকজন শিশুও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়েছিল। শিশুটির মা বলেন, “মেয়েকে পড়াশোনার জন্য মাদরাসায় দিয়েছিলাম। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটবে ভাবতেও পারিনি।”
মামলা ও গ্রেপ্তার
গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় মায়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তবে মামলা দায়েরের ১১ দিন পরও প্রধান আসামি আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তার ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে রয়েছেন।
চিকিৎসকের উদ্বেগ
স্থানীয় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার জানান, শিশুটির বয়স মাত্র ১১-১২ বছর, উচ্চতা সাড়ে চার ফুটেরও কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। গর্ভস্থ সন্তানের মাথার আকার তার শরীরের তুলনায় অনেক বড়, যা জন্মদানের সময় বড় ধরনের জটিলতা ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
(এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত
এ জাতীয় আরো খবর...