বিয়ে প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত মানিক মিয়া
স্টাফ রিপোর্টার,
নারায়ণগঞ্জের,
আয়েশা আক্তার আশা নামের এক নারী লালমাই উপজেলার মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, প্রতারণা, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তার আশা অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে মানিক মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন যোগাযোগের পর সরল বিশ্বাসে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ৫ লাখ ১ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, মানিক মিয়ার একাধিক স্ত্রী রয়েছে এবং এসব তথ্য গোপন রেখেই তাকে বিয়ে করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মানিক মিয়া প্রথমে দাবি করেছিলেন তার আগের স্ত্রী পরকীয়া করে চলে গেছেন। পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, তার একাধিক স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। আয়েশা দাবি করেন, তিনি মানিক মিয়ার সপ্তম স্ত্রী। তাকে বিয়ে করার পরও অভিযুক্ত আরও দুই নারীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি স্বামীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিক মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে রান্নাঘর থেকে বটি এনে তার গলায় ধরে হত্যার হুমকি দেন। তিনি চিৎকার করলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে প্রায় ১০ মাস ধরে সে আত্মগোপনে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আয়েশা আক্তার আশা আরও জানান, বর্তমানে অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং মোবাইল ফোনে নিয়মিত হুমকি প্রদান করছে। এমনকি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করারও চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি তার বৈধ স্ত্রী থাকা অবস্থায় কেন অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক করবো? আমাকে পরিকল্পিতভাবে অপমান ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত মানিক মিয়া পূর্বেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং অন্তত দুই স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স দিয়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি ওই নারীদের সঙ্গেও স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া মানিক মিয়ার মা সখিনা বেগম, ভাই মজিদ মিয়া ও বোন রোকসানাও তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ করেন আয়েশা। তার দাবি, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে অভিযুক্ত বিয়েকে “ব্যবসা” হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, অতীতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করলেও তার আশ্বাসে সরল বিশ্বাসে কয়েকটি মামলা তুলে নেন। কিন্তু পরে পুনরায় একই ধরনের আচরণ শুরু করলে তিনি আবার আইনের আশ্রয় নেন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রতারক ও নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে আর কোনো নারী এমন প্রতারণার শিকার না হন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মানিক মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ জাতীয় আরো খবর...