আবু নাসের মহিউদ্দিন,
প্রকাশক,
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহিত দিবস ঐদিনে সিপাহী-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংগ্রহন করে সকল বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জানানো হয় বিন্রম শ্রদ্ধা।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে অবিস্বরণীয় দিন, তাঁবেদার অপশাসন, দূর্নীতি,নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে দেশ তাঁর স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছিল।সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়, স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুন্ঠ সমর্থনে তাঁর উপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের দায়িত্ব অর্পিত করা হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ জাতীর ক্লান্তিকালে ভূমিকা ছিল স্বরণীয়।
সিপাহী ও জনতার সহিংসতা ছিল স্বাধীন বাংলার চেতনায় উজ্জীবিত জাগরণ, দেশের সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় সংহিত ঐক্য ছিল। আর একই চেতনা পুনর্জাগরিত হয় ২০২৪ সালের গণ-অভূ্যথানে। এসময়ে দেশের ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ,,সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং জনগণের সুদূঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া থেকে আবার রক্ষা পায় আমার প্রিশ মাতৃভূমি বাংলাদেশ। ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি জনতার বিপ্লব, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দলোন কিংবা ২৪ এর ফ্যাসিবাদবিরোধ গণ-অভু্যথান, এভাবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব অভ্যুথানের একটাই আকাঙ্খা, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সকল গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
আমাদের জাতীয় জীবনে এই বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম, এই ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গনতন্ত্রের আইনের শাসন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুন:প্রতিষ্ঠা করেন; অর্থনৈতিক উত্তোলন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে গেছেন।তিনি দেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্তি দেন এবং বাংলাদেশকে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীর উন্নয়ন,অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন, সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করেন সুশাসন। আসুন ৭ নভেম্বর সামনে রেখে আশা আকাঙ্খা আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি সমৃদ্ধির বাংলাদেশ উন্নয়নের বাংলাদেশ।
০৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হয়েছে। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স জনাব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
দূতাবাস প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। তারপর দূতাবাসের হলরুমে পবিত্র কোরআন তিলওয়াতের মাধ্যমে উক্ত অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দিবসটির উপর প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী যথাক্রমে পাঠ করে শোনান দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর প্রথম সচিব জনাব মোহাম্মদ আতিকুল মামুন এবং দূতাবাসের সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ মানিরুজ্জামান। এরপর দিবসটির উপর প্রেরিত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং কুয়েতে বসবাসরত বিভিন্ন পেশাজীবী ও প্রবাসী বাংলাদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স, উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে কুয়েতে বসবাসরত তিন লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদানের কথা গর্বের সাথে স্মরণ করেন। তিনি জানান, গত অর্থবছরে কুয়েত থেকে প্রেরিত প্রায় ১.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ-এর সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের যে অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে, যা দু’দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
এছাড়া, তিনি প্রবাসীদের সুরক্ষায় এবং আইনি জটিলতা এড়াতে কুয়েতের আইন-কানুন ও বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ভিসা, আকামা ও বৈধ পথে অভিবাসনের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন ও ইমেইলে যোগাযোগের জন্য প্রবাসীদের আশ্বস্ত করেন।
পরিশেষে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-কুয়েত যৌথ বন্ধুত্বের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এ জাতীয় আরো খবর...