রাজপথ থেকে Wrexham University-এর মঞ্চে, MSc অর্জনের পরও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে তানভীর আহমেদ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতি, এরপর যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা—দীর্ঘ এই পথচলায় নতুন সাফল্য অর্জন করেছেন তানভীর আহমেদ। যুক্তরাজ্যের Wrexham University থেকে Master of Science (MSc) ডিগ্রি অর্জনের পর সমাবর্তনের মঞ্চে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। বর্তমানে পিএইচডি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন তানভীর।
তানভীর আহমেদের সাংগঠনিক পথচলা শুরু হয় মুহাম্মদ রিফাত তানজিম অমি ও রায়হান কিবরিয়ার নেতৃত্বে নওগাঁ পৌর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পরদিন থেকেই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নওগাঁর রাজপথে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। বিশেষ করে রায়হান কিবরিয়ার নেতৃত্বে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
নওগাঁ পৌর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রস্তাবিত তালিকায় তানভীর আহমেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক পদে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটেনি। তা সত্ত্বেও ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরবর্তী সময়ে রাজশাহী কলেজে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তানভীর আহমেদ। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় হন। রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক দত্তের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সম্পর্ক এই সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
ভিন্ন জেলার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও আশিক দত্তের কাছ থেকে পাওয়া আন্তরিকতা, স্নেহ, সহযোগিতা ও উৎসাহ তানভীরের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বর্ণনায় উঠে এসেছে। ছাত্ররাজনীতির পরিসরে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারও অংশ হয়ে রয়েছে।
প্রবাসজীবনে রিয়াজ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ তানভীর আহমেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উঠে আসে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের নাম। সংগঠনের এই পদে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগরের ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত রিয়াজ। তানভীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিগত যোগাযোগ, আন্তরিকতা ও বড় ভাইসুলভ স্নেহের দিকটিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বর্ণনা অনুযায়ী, রিয়াজ মাহমুদের স্নেহ, উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা তাঁর প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতায় অনুপ্রেরণার অংশ হয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয়ের পাশাপাশি এই ব্যক্তিগত সম্পর্কও তানভীরের পথচলার বিবরণে উল্লেখযোগ্য স্থান পেয়েছে।
রিয়াজ মাহমুদকে ঘিরে দেশে ফেরা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, দেশে ফেরার বিষয়ে একান্ত আপনজনদের কাছে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ও স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত রিয়াজ মাহমুদ আপা ( শেখ হাসিনার ) সঙ্গে অথবা তাঁর নির্দেশনার ভিত্তিতে আগেই দেশে ফিরতে পারেন বলে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেও আশাবাদ রয়েছে। তবে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে রিয়াজ মাহমুদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগরের ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়েও নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। অদম্য সাহস, পরিশ্রম, দৃঢ় মনোবল, মেধা ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হয়। সহযোদ্ধাদের প্রতি ভালোবাসা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দৃঢ় থাকার মানসিকতা তাঁকে ঘিরে আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে রিয়াজ মাহমুদ আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে। তাঁদের বিশ্বাস, প্রতিকূলতা কাটিয়ে তিনি আবারও মহানগরের রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন এবং পুরোনো সহযোদ্ধা ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন। তবে তাঁর দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময় ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা ও নতুন অর্জন উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর নতুন পরিবেশে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোনিবেশ করেন তানভীর আহমেদ। দেশের বাইরে অবস্থান করেও নওগাঁ পৌর ছাত্রলীগ ও রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের পরিচিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি বলে সংশ্লিষ্ট বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর শিক্ষাজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন যুক্তরাজ্যের Wrexham University থেকে Master of Science (MSc) ডিগ্রি লাভ। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই ডিগ্রি তাঁর শিক্ষাজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সমাবর্তনের মঞ্চে সনদ গ্রহণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাটি তাঁর শিক্ষাগত অর্জনের পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তানভীরের এই পদক্ষেপকে নিজের শেকড় ও পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যক্তিগত প্রকাশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
নওগাঁর রাজপথে ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন মঞ্চে পৌঁছানো—তানভীর আহমেদের এই যাত্রায় শিক্ষা, ব্যক্তিগত অধ্যবসায় এবং পুরোনো সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে যাঁদের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তাঁদের মধ্যে রিয়াজ মাহমুদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও তাঁর বর্ণনায় গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে পিএইচডি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আরও কিছুদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করবেন তানভীর আহমেদ। উচ্চশিক্ষার এই পরবর্তী ধাপ তাঁর একাডেমিক অগ্রযাত্রায় নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলে আশা করা যায়।
নওগাঁ পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে রাজশাহী কলেজের ছাত্ররাজনীতি এবং সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন—তানভীর আহমেদের পথচলা শিক্ষা, ব্যক্তিগত অধ্যবসায় ও সাংগঠনিক সম্পর্কের একটি ধারাবাহিক বিবরণ। ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়েও পুরোনো সহযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলাই তাঁর এই যাত্রার উল্লেখযোগ্য দিক।
এ জাতীয় আরো খবর...