পারভেজ বাঙালী।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।
চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে খালাস না হওয়া কনটেইনার খালি করতে বিশেষ অনলাইন নিলামের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এবার ফেব্রিক্সসহ মোট ৩৭টি লটের বিভিন্ন পণ্য এই নিলাম প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগ্রহী ক্রেতারা এই নিলামে অংশ নিয়ে নিজেদের দরপ্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। এর আগে গত ২ জুন সকাল ৯টা থেকে এই দরপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে পড়ে থাকা অখালাসকৃত পণ্য দ্রুত সরিয়ে নিতে নিয়মিত বিরতিতে এই নিলামের আয়োজন করা হচ্ছে। ইদানীং অনলাইন নিলামের পাশাপাশি সরাসরি বা প্রকাশ্য নিলামের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
"নিলাম প্রক্রিয়া সচল রাখা চট্টগ্রাম কাস্টমসের একটি নিয়মিত ও ধারাবাহিক দায়িত্ব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষ নির্দেশনা মেনে আমরা বর্তমানে নিলাম কার্যক্রমে বাড়তি গতি এনেছি। এর ফলে একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা খালি হচ্ছে, অন্যদিকে অখালাসকৃত পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে।"
— শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন, সহকারী কমিশনার, চট্টগ্রাম কাস্টমস।
নিলামে থাকা উল্লেখযোগ্য পণ্যসমূহ:
কাস্টমসের নিলাম শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের ৩৭টি লটে হরেক রকমের পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স ও কোটেড ডুপ্লেক্স বোর্ড
হার্ড উড ক্র্যাফট, মেটাল হ্যাংগার ও কি-রিং
ভেজিটেবল কাটার ও নাইফ (ছুরি)
ইউপিভিসি ফিটিংস, পিভিসি ওয়াটার পাইপ এবং সুইমিং পুল পাম্প
ফায়ার অ্যালার্ম কন্ট্রোল প্যানেল ও বিয়ারিং
রাবার চিপস, ব্রিকস এবং সার্জিক্যাল মাস্ক
চেস্ট ফ্রিজার ও বিভিন্ন ধরনের রিলিফ গুডস (ত্রাণ সামগ্রী)
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে আসা পচনশীল পণ্যগুলো দ্রুত নিলাম করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি স্থায়ী আদেশ রয়েছে। তবে বিগত সময়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের একাংশের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে সেই নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অতীতে অনেক খাদ্যপণ্য বন্দরেই পচে নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করতে হয়েছিল। এতে সরকার তো রাজস্ব পায়নি-ই, উল্টো সেই পচা পণ্য ধ্বংস করার জন্য বাড়তি অর্থ গুনতে হয়েছিল।
তবে কাস্টমসের বর্তমান প্রশাসন সেই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পচনশীল পণ্যসহ যেকোনো নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত খালাস ও বিক্রির বিষয়ে কড়া নজরদারি রাখছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এ জাতীয় আরো খবর...