পুলিশ সুপারে নির্দেশনায় র্যাবের সহযোগিতায় নওগাঁ জেলা পুলিশের অভিযানে আন্তজেলা গরু চোর-ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫ চোরাই গরু
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ রাফি হোসেন
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সংঘটিত ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে আন্তজেলা গরু চোর-ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সফল অভিযান পরিচালনা করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক নির্দেশনায় এবং র্যাব-১২ (বগুড়া)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হাট তাজপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত আন্তজেলা গরু চোর-ডাকাত চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছি ও মহাদেবপুর উপজেলায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আন্তজেলা গরু চোর-ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত অব্যাহত রেখে ২১ জুলাই রাতে র্যাব-১২, বগুড়ার সহযোগিতায় চক্রের অন্যতম সদস্য গোলাম রাব্বানীকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার নওগাঁ র্যাব-১২ বগুড়ার কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে নাটোর জেলার সিংড়ায় যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পরিদর্শক হাসিব এবং রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গভীর রাতে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে নাটোরে র্যাবের একটি টিমও অভিযানে যুক্ত হয়।
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও পরিচালিত অভিযানে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হাট তাজপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর ও ডাকাত শ্রী সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং শ্রী সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)-সহ চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা গেছে, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও ময়মনসিংহকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ গরু চোর-ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। নাটোরে গ্রেপ্তার হওয়া সুজিত ও সুচন্দন স্থানীয়ভাবে গরুর ব্যবসায়ী পরিচয়ে চোরাই গরু সংগ্রহ করতেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি বা ডাকাতির মাধ্যমে আনা গরু কয়েকদিন লালন-পালন করে পরে বিক্রি করা হতো।
পুলিশ আরও জানায়, প্রথম ধাপের অভিযানে তিনজন এবং সর্বশেষ অভিযানে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত চক্রের মোট ছয় সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, "গরু কৃষকের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। কৃষকের কষ্টার্জিত সম্পদ রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। গরু চোর ও ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর...