পারভেজ বাঙালী ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানার আওতাধীন এলাকায় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। অপরাধপ্রবণ স্পট, আড্ডাস্থল ও অপরাধে জড়িত গ্রুপ চিহ্নিত করে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের সন্তানের চলাফেরা, বন্ধুত্ব, অনলাইন কার্যক্রম ও আচরণগত পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থী চিহ্নিত করে কাউন্সেলিং, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কিশোর উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদেরও তাদের প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা যাতে কিশোর অপরাধের আড্ডাস্থলে পরিণত না হয়, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কিশোরদের মাদক, জুয়া, ইভটিজিং, মারামারি, চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধী চক্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও আড্ডা এড়িয়ে চলা, গুজব ও উসকানিমূলক অনলাইন কনটেন্ট থেকে দূরে থাকা এবং কোনো ধরনের প্ররোচনা বা চাপের কারণে অপরাধে না জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
কোনো কিশোর অপরাধের প্ররোচনা, মাদক বা অন্য কোনো অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারলে অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলছে, অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের ক্ষেত্রে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সংশোধন ও পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের কাউন্সেলিং, পারিবারিক তত্ত্বাবধান, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়াদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনা এবং কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
জেলা পুলিশের মতে, পরিবার, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও পুলিশের সমন্বয়ে নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে কিশোরদের অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে বের করে ইতিবাচক ও সহায়ক পরিবেশে যুক্ত করা প্রয়োজন। কিশোরদের শুধু অপরাধী হিসেবে না দেখে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে বিবেচনা করে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...