পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একের পর এক মাদার ভেসেল অপেক্ষায় থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইটার জাহাজ মিলছে না। ফলে আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে দ্রুত সরানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে জাহাজের অবস্থানকাল বাড়ার পাশাপাশি আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ডেমারেজ।
বন্দরসংশ্লিষ্টদের তথ্য বলছে, বর্তমানে যে পরিমাণ পণ্য খালাসের জন্য লাইটার জাহাজ দরকার, তার তুলনায় বরাদ্দ অত্যন্ত কম। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০টি লাইটার জাহাজের প্রয়োজন থাকলেও গত এক সপ্তাহে গড়ে পাওয়া গেছে মাত্র ৪০টি। রোববার বরাদ্দের সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ২০টিতে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি সব পণ্য খালাসের সুযোগ নেই। নাব্যতার সীমাবদ্ধতার কারণে মাদার ভেসেলের বড় একটি অংশের পণ্য ছোট আকারের লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করে বিভিন্ন ঘাটে পাঠাতে হয়। তাই লাইটার জাহাজের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলেই পুরো খালাস প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৫০ হাজার টন পণ্য নিয়ে আসা একটি মাদার ভেসেলের জন্য প্রতিদিন কয়েকটি লাইটার জাহাজ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদামতো জাহাজ না পাওয়ায় আগে যে কাজ ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে শেষ করা যেত, সেটিই এখন গড়াচ্ছে ২০ থেকে ২৫ দিনে।
শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার হোসেনের ভাষ্য, অতিরিক্ত এই সময়ের কারণে প্রতিটি জাহাজকে প্রায় ১৫ দিন বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো কোনো জাহাজের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ডেমারেজ দিতে হচ্ছে।
শুধু জাহাজ সংকট নয়, প্রতিকূল আবহাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ঘাটে কিছু লাইটার জাহাজ আটকে থাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনুমোদিত সিরিয়াল না মেনে কয়েকশ জাহাজ চলাচলের অভিযোগ।
এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে ছাড়পত্র ছাড়া চলাচল করা লাইটার জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ব্যবসায়ীদের আরেকটি উদ্বেগের জায়গা হলো লাইটার জাহাজের মোট সংখ্যা। তাদের দাবি, দেশে একসময় দেড় থেকে দুই হাজারের মতো লাইটার জাহাজ পণ্য পরিবহনে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সক্রিয় জাহাজের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে আমদানি পণ্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও কমেছে।
নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানান, পণ্য পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগে ৫৬টি লাইটার জাহাজের ‘বে-ক্রসিং’ লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
লাইটার জাহাজের ঘাটতি দ্রুত দূর করা না গেলে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে পারে আমদানি পণ্যের খরচ ও সামগ্রিক বাণিজ্যিক ক্ষতি।
এ জাতীয় আরো খবর...