পারভেজ বাঙালী
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন সিভিক সেন্টারে ‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে সম্মিলিত অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়।
সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম বলেন, মাদককে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের কারণে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রধান আলোচক চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম বলেন, মাদক নির্মূলে একদিকে যেমন মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যদিকে মাদক গ্রহণের প্রবণতা কমানোর উদ্যোগও নিতে হবে। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে তাদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধান অতিথি ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রশাসন ও পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা, আইনজীবী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। এর মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারে সচেতনতা বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার মাধ্যমে মাদকের চাহিদা কমাতে হবে।
সমাবেশ শেষে মাদকবিরোধী একটি র্যালি বের করা হয়। এতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালি থেকে মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হবে। মাদকমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর...