মোঃ আমির হোসাইন ছাদেকী, জেলা প্রতিনিধি (বান্দরবান):
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের পুলাংপাড়ার বাসিন্দা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক জিয়াউর রহমানকে (৫০) অপহরণের পর নির্মম নির্যাতন করে টংকাবতীর জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়েছিল। একদিন পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জিয়াউর রহমান নিজের মুঠোফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে জানান, তাকে কে বা কারা আটকে রেখেছে। এরপর পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, দাবিকৃত টাকার মধ্যে একটি অপরিচিত বিকাশ নম্বরে ৪০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও অপহরণকারীরা তাকে মুক্তি দেয়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ও এলাকাবাসী ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বুধবার (২৯ জুলাই) সরই মোটরসাইকেল সমিতির সভাপতি মোঃ জাবেদের নেতৃত্বে বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের একটি গহীন জঙ্গল থেকে জিয়াউর রহমানকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, জিয়াউর রহমানের দুই হাত শক্তভাবে বেঁধে রাখার কারণে তার হাতের কবজিতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে গুরুতর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে উচ্চতর হাসপাতালে রেফার করা হবে।
ভুক্তভোগীর ছেলে ইলিয়াচুর রহমান বলেন, "আমার বাবাকে যারা অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।"
সরই মোটরসাইকেল সমিতির সভাপতি মোঃ জাবেদ বলেন, "আমরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর টংকাবতী ইউনিয়নের গহীন জঙ্গল থেকে জিয়াউর রহমানকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"
এ জাতীয় আরো খবর...