আজঃ 06 May 2026 | সময়ঃ
সংবাদ শিরোনাম :
মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের উদ্যোগে, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু হল নারায়ণগঞ্জ। শাপলা হত্যাকান্ডে জড়িতদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে - খেলাফত মজলিস বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়ের জয়! সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ল নকল, বহিষ্কার দাখিল পরীক্ষার্থী নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় জেলা প্রশাসকের। কেন্দ্রীয় মসজিদের টয়লেট ভাঙ্গায় বিপাকে মুসল্লী মুন্সিগঞ্জের ত্যাগী নেত্রী মুকুল আক্তারের গণশিক্ষার বার্তা নলডাঙ্গায় ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি ঢাকা পলিটেকনিক ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত তৌহিদ হাসান মনোহরদী পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় নীলফামারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের কবলে ডুমুরিয়ার দুটি রক্ষিত পরিবার জরুরী শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দরকার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬ এর ভার্চুয়াল উদ্বোধন জামালপুর বিয়ে প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত মানিক মিয়া পুকুরের পানিতে ডুবে রুপগঞ্জে দুই শিশুর মৃত্যু আনোয়ারায় নির্মাণ শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক মে দিবস পালিত চট্টগ্রাম শহরের জলবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিন জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সহ ১৪ দফা দাবি পূরণ করতে সরকার নিকট আহ্বান।

নওগাঁয় ছুটির দিনে অফিস সহকারীর গোপনে সরকারি বই বিক্রির চেষ্টা

দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি 24 ডেস্ক
ছবির ক্যাপশন: দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪

দেবাশিষ কুমার দাস 
জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ। 


 নওগাঁর পোরশায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আমানত আলীর বিরুদ্ধে সরকারি বই গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে টেন্ডার ছাড়াই ওই কর্মচারীর যোগসাজশে বই বিক্রির সময় স্থানীয়রা অটো চালককে আটকের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বইগুলো অফিস সহকারীর কাছ থেকে কিনেছিলেন তাইফুর আলী নামের এক ব্যক্তি। 

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার নিতপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ গেটে প্রায় ৭০০ কেজি বই পাচারের সময় স্থানীয় জনগণ বইগুলো আটক করে। জব্দকৃত বইসহ অটোরিকশা চালককে জনগণের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বই বহনকারী অটোরিকশার চালক অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি এসব বই অফিস সহকারী আমানত আলীর কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া হিসেবে বইগুলো বহন করছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে একটি অটোরিকশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করেন। এবং অফিসের কর্মচারী আমানত আলীর যোগসাজশে সরকারি প্রায় ৭০০ কেজি বই অটোরিকশায় নিয়ে যেতে লাগে। বইগুলো আমানত আলীর কাছ থেকে কিনেছিলেন তাইফুর আলী নামের এক ব্যক্তি। আর তাইফুরের ভাড়া হিসেবে বইগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন অটোরিকশা চালক। রিকশাটি উপজেলার নিতপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ গেটে পৌঁছার পর স্থানীয়রা জানতে পেরে অটোরিকশাটি আটকে দেয়। সেই সাথে অটোচালককে আটকে রেখে ইউএনওকে খবর দেন। এবং ইউএনও’র পরামর্শে জব্দকৃত বইসহ ভ্যান চালককে তার অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার সময় বিক্রেতা ও ক্রেতা কেউ উপস্থিত ছিলনা। জানাজানির পর তারা সকলেই সটকে পড়ে। এদিকে, সরকারি বই গোপনে বিক্রির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 

জানা গেছে, বিক্রিত বইগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারি বই বিক্রির ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, অভিযুক্ত আমানত আলী প্রথমে এই অফিসে পিয়ন পোষ্টে চাকুরী করতেন। পরবর্তীতে তিনি অফিস সহকারী পদে পদোন্নতি পেয়ে সাপাহার মাধ্যমিক অফিসে বদলি হন। আবারও তিনি তদবির করে পোরশা মাধ্যমিক অফিসে বদলি হয়ে আসেন। আমানত আলী স্থানীয় হওয়ার কারণে বরাবরই তিনি অফিসে বেপরোয়া চলাফেরাসহ বিভিন্ন দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আমানত আলী বলেন, একজনের অনুরোধে বইগুলো দিয়েছিলাম। এছাড়া পরিস্কার করার জন্য বইগুলো নিয়ে যাচ্ছিল। আমি কোনো টাকা নিইনি। তবে এটা আমার ভুল হয়েছে। আর অন্য সকল অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। আমি সামান্য একজন কর্মচারী। আমি খুব ভালো ভাবে কাজ করি।

সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও পোরশার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শামসুল কবীর বলেন, আমি ঈদের ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি ইউএনও মহোদয় আমাকে জানানোর পর আমি আমানত আলীকে ফোন দিই। এরপর সে গোডাউন পরিস্কারের অজুহাত দেয় আমাকে। এবং সে বলে বইগুলো ২৪ সালের পুরাতন। কিন্তু যতই পুরাতন বই হোক সংশ্লিষ্ট কারো অনুমতি ছাড়া কোনো বই বিক্রি করা যাবেনা। আমানত আলী এটা অন্যায় করেছে। আমি ঈদের পর এসে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জানতে চাইলে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে বইগুলো জব্দ আছে। এবং বইগুলো যে নিয়ে যাচ্ছিল, তার স্টেটমেন্ট নেওয়া আছে। আর সেখানে ভ্যান চালক ছাড়া শিক্ষা অফিসের কাউকে পাওয়া যায়নি। আমি চেয়েছিলাম একটা মামলা হোক। কিন্তু যাদের ডিপার্টমেন্ট তাদের কেউ ছিলনা। অফিস ছুটি থাকার কারণে শিক্ষা অফিসের কেউ ছিলনা। তবে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে দিবো। এখন শিক্ষা অফিস কিভাবে এটা নিষ্পত্তি করবে, সেটা দেখার বিষয়।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার জানান, এ ব্যাপারে আমাকে কেউ জানায়নি, আপনার মাধ্যমে প্রথম জানলাম। পোরশার শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে ঈদের পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন...

এ জাতীয় আরো খবর...
---------------------------------------------------------------------
বিজ্ঞাপন ৯ Whats-App-Image-2025-09-28-at-21-25-44-b187979f
---------------------------------------------------------------------
বিজ্ঞাপন ২ received-874219331633485
---------------------------------------------------------------------
৩ বিজ্ঞাপন Whats-App-Image-2025-09-28-at-21-25-46-e841052a