দেবাশিষ কুমার দাস
জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩০ টন। গত মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৬০ টন। সেই হিসেবে এ বছর জেলায় ৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে।
সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত মৌসুমেও আলু চাষ করে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিলাম। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় ঋণ করে এবারও দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। কিন্তু এবারও উৎপাদন খরচ তুলতে পারব না।’
বদলগাছী উপজেলার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বিঘায় আলু চাষে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ বাজারে দাম ৫-৭ টাকা। একজন শ্রমিকের মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, এক বিঘার আলু তুলতে ৮-১০ জন শ্রমিক লাগে। এই দামে বিক্রি করে শ্রমিক ও পরিবহন খরচই উঠছে না।’
মান্দা উপজেলার ইদ্রিস উদ্দিন জানান, ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেও দাম না থাকায় এবং হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তিনি ফসল সংরক্ষণ করতে পারছেন না।
রানীনগর উপজেলার বাচ্চু মন্ডল দীর্ঘ ২০-২২ বছর ধরে আলু চাষ করছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এত কম দামে কখনও আলু বিক্রি করিনি। আগামী বছর আর আলু চাষ করব না, অন্য ফসলে চলে যাব।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, ‘গত মৌসুমে লোকসানের পর কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও অনেক কৃষক চাষ করেছেন। এখন ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, আর এ কারণেই দাম কমেছে।’
এ জাতীয় আরো খবর...