মো: রাফি হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা কালাম হোসেন (৪১) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রায় এক বছর ধরে লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসা জরুরি হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বেকারত্ব ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে এখন সমাজের মানবিক মানুষদের সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন এই রোগী।
মৃত মির বক্সের ছেলে কালাম হোসেন একসময় মাইক্রোবাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং সচ্ছলভাবেই সংসার চালাতেন। কিন্তু মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে তার আর গাড়ি চালানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। কালাম জানান, কেবল ওষুধ কিনতেই প্রতি মাসে তার প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কালাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এক দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হারান তিনি। এরপরই তার শরীরে বাসা বাঁধে এই মরণব্যাধি। রোগের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়ে নিজের শেষ সম্বল প্রায় ৭.৫ শতক জমিও আপন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে নিজের কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় স্ত্রীকে নিয়ে একটি টিনশেড ভাড়া বাড়িতে অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপন করছেন।
সরেজমিনে কালামের ভাড়াবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও নেই বললেই চলে। আগামী দিনের আহার জুটবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যেও সুস্থ হয়ে আবারও কর্মজীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন কালাম। বর্তমানে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও কিছু মানবিক মানুষের বিচ্ছিন্ন সহায়তায় কোনোমতে তার চিকিৎসা ও সংসার চলছে।
নিজের আকুতি জানিয়ে কালাম হোসেন বলেন, "আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার কাজ করে সংসার চালাতে চাই। কিন্তু চিকিৎসার এই বিশাল খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষগুলো যদি আমার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।"
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ জানান, "লিখিত দরখাস্ত পেলে সমাজসেবাসহ সংশ্লিষ্ট তিনটি দপ্তরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে তার রোগ অনুযায়ী সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে তার হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হবে।"
চিকিৎসার অর্থসংকটে প্রতিটি দিনই কালামের জন্য এখন পাহাড়সম কঠিন হয়ে উঠছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হয়তো তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবারটির মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
কালাম হোসেনকে মানবিক সহায়তা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা তার ব্যক্তিগত বিকাশ/নগদ নম্বর: ০১৭১৭-১৩৮৮০৮-এ আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।
নোট: নিউজটি হুবহু কোনো অনলাইন পোর্টাল, দৈনিক পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের জন্য উপযুক্ত করে সাজানো হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...