
কফিলুর রহমান(বিভাগীয় প্রধান,রংপুর): ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে প্রতিষ্ঠানভেদে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
প্রাপ্ত তালিকায় ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলায় সাধারণ ৬টি কলেজ ও ৩টি মাদ্রাসার মোট ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল জানা গেছে। এর মধ্যে সাধারণ কলেজগুলোর পাসের হারে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ধলডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অন্যদিকে মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসা। তবে সাধারণ কলেজগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার মাইদাম কলেজের এবং মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে চর বড়ুইটারী আলিম মাদ্রাসার। কারিগরি ও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোর ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জিপিএ-৫ অর্জনের দিক থেকে সাধারণ কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি জিপিএ-৫ পেয়ে শীর্ষে রয়েছে ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ। মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪টি জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসা। অন্যদিকে সোনাহাট ডিগ্রি কলেজ, মাইদাম কলেজ, বাউশমারী ফাজিল মাদ্রাসা ও চর বড়ুইটারী আলিম মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ধলডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২২১২৭) থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজনই পাস করেছে। পাসের হার ১০০ শতাংশ। মানবিক বিভাগের একমাত্র পরীক্ষার্থী পাস করেছে। সরেজমিনে দেখা যায় কলেজটিতে দুইটি ঘরের কোন বেড়া নাই, অফিস কক্ষ নাই। প্রতিষ্ঠানের প্রধান মোঃ রিয়াজুল ইসলামকে ফোনেও পাওয়া যায়নি।
ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসা (১২২১০৫) থেকে ৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৯ জন। পাসের হার ৬৯.০১ শতাংশ। সাধারণ বিভাগে ৬৩ জনের মধ্যে ৪১ জন পাস ও ২২ জন ফেল করেছে এবং ৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ১১ জনের ৮ জন পাস ও ৩ জন ফেল করে। বাউশমারী ফাজিল মাদ্রাসা থেকে সাধারণ বিভাগের ১২ জন পরীক্ষার্থীর ৭ জন পাস ও ৫ জন ফেল করেছে। পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
বলদিয়া কলেজ (১৩৭৭৫৭) থেকে ৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৩.১৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগের ৮৮ জনের মধ্যে ৫৪ জন পাস ও ৩৪ জন ফেল করেছে। এ বিভাগ থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। তবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একমাত্র পরীক্ষার্থী ফেল করেছে।
ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ (১২২১২৩) থেকে ২৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১২০ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ জন, পাসের হার ৪৬.৮৮ শতাংশ। মানবিক বিভাগের ২৩০ জনের মধ্যে ৯৭ জন পাস ও ১৩০ জন ফেল করেছে। এ বিভাগ থেকে ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ২২ জনের মধ্যে ২০ জন পাস এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৪ জনের মধ্যে ৩ জন পাস করেছে।
সোনাহাট ডিগ্রি কলেজ (১২২১২৪) থেকে ২৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৩.৪০ শতাংশ। মানবিক বিভাগের ২৫৩ জনের মধ্যে ১০৬ জন পাস ও ১৪৭ জন ফেল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগের ১০ জনের মধ্যে ৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২ জনের মধ্যে একজন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ (১২২১২২) থেকে ৩৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৩.৪২ শতাংশ। মানবিক বিভাগের ২৮৫ জনের মধ্যে ৮৪ জন পাস ও ২০১ জন ফেল, এ বিভাগ থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ জনের মধ্যে ২৫ জন পাস, ১৫ জন ফেল এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৪০ জনের মধ্যে ১৪ জন পাস করেছে।
চর বড়ুইটারী আলিম মাদ্রাসা (১২২১০৭) থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন পাস করেছে। পাসের হার ২৫ শতাংশ। সাধারণ বিভাগের ৬ জন পাস ও ১৮ জন ফেল করেছে।
অন্যদিকে মাইদাম কলেজ (১২২১২৫) থেকে ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ১৭.৮৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগের ২৬ জনের মধ্যে ৫ জন পাস ও ২১ জন ফেল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগের দুই পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে।
সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ কলেজগুলোর তুলনায় মাদ্রাসাগুলোর গড় পাসের হার তুলনামূলক ভালো। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। বিশেষ করে মাইদাম কলেজ ও চর বড়ুইটারী আলিম মাদ্রাসার নিম্ন পাসের হার এবং কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ না পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডি ও শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, এবার এক বিষয়ে ফেল করেছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জনের পরীক্ষা নিতে হবে। এবার মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন।
‘যারা এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পরীক্ষা আমরা এক মাসের মধ্যে নিয়ে নেব। তাহলে যেন তাদের আগামী দিনে আর একটি বছর নষ্ট না হয়। এটি হচ্ছে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা।