প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 4, 2026 ইং
পাহাড়ে মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ করছে বন বিভাগ, লামায় ক্ষতিগ্রস্তদের চেক বিতরণ

মোঃ আমির হোসাইন ছাদেকী, জেলা প্রতিনিধি (বান্দরবান):
পাহাড়ি এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে লামায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়।
রবিবার (০৪ অক্টোবর) লামা বন বিভাগের আয়োজনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ এবং হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতির আক্রমণে একজন নিহত ব্যক্তিসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জন ব্যক্তির হাতে সর্বমোট ২১ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়।
সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক জনাব মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, লামা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক জনাব মিহির কুমার দো, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জনাব মোস্তাফিজুর রহমান। বিভিন্ন রেঞ্জে কর্মরত রেঞ্জ অফিসার, কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিক, ও উপকার ভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিথি প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, যারা হাতির আক্রমণে আপনজন হারিয়েছেন, তারাই বুঝেন কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। আর এ ক্ষতি কোন ভাবেই পূরন হওয়ার নয়। শুধুমাত্র সমবেদনা জানানোর জন্যেই বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ আর্থিক সহযোগিতা মাত্র। তিনি আরো বলেন, হাতির আবাস্থল দখল করে জনবসতি, জুম চাষ ও বাগান সৃজনের কারনে খাবার সংকট দেখা দেয়। আর খাবার না পেয়ে হাতিরা লোকালয়ে নেমে পড়ে মানুষ ও ফসলের ক্ষতি করছে। এতে হাতি মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বও সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য ইতিমধ্যে সরকার হাতি সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প গ্রহন করেছেন। এ ছাড়া প্রতিটি হাতি প্রবণ এলাকায় ই আর টি নামের একটি দল গঠন করা হয়েছে। এ দলের সদস্যরা হাতি সংরক্ষণে কাজ করছেন, হাতি জাতীয় সম্পদ হাতির আবাসস্থল নষ্ট না করে উন্মুক্ত রাখা জরুরী। কোনভাবেই হাতিকে মারা যাবেনা বরং সকলে মিলে হাতি সংরক্ষণে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, স্থানীয় লোকজনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে সরকার দ্রুততম সময়ে এই ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ ও বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪