প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 9, 2026 ইং
মামলা জটে চট্টগ্রাম কাস্টমস, আটকে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব

পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় একদিকে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব আদায় আটকে আছে, অন্যদিকে পণ্য ও কনটেইনার ছাড়াতে গিয়ে ব্যবসায়ীদেরও পড়তে হচ্ছে নানা জটিলতায়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাই ৯ হাজার ২৮৩টি। এসব মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় অনিশ্চিত হয়ে আছে।
এ ছাড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে আরও ৮৬৩টি মামলা। এসব মামলায় আটকে আছে ২৮১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের আইন শাখার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২০টি মামলাতেই আটকে রয়েছে ১৩৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ। বিপুল সংখ্যক মামলা থাকলেও আইন শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র সাত থেকে আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। পাশাপাশি মামলা পরিচালনার জন্য বরাদ্দও রয়েছে মাত্র দুই লাখ টাকা। ফলে সীমিত জনবল ও অর্থ দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক মামলা সামাল দিতে গিয়ে কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মামলা দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে শুধু সরকারের রাজস্বই আটকে থাকছে না; আমদানিকারকদের পণ্য ও কনটেইনার দীর্ঘ সময় আটকে থেকে অতিরিক্ত খরচের বোঝাও বাড়াচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। বিষয়গুলো আইনগত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নিষ্পত্তিতে সময় প্রয়োজন হয়। মামলাগুলো নিষ্পত্তি হলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বাড়বে।
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, দীর্ঘদিনের মামলা জট নিরসনে বর্তমান আইন শাখার পাশাপাশি আলাদা একটি ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়বে এবং একই সঙ্গে সরকার ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই সুফল পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আটকে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া গেলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও গতি ফিরতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থ বরাদ্দ এবং পৃথক মামলা ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি উঠেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪