প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 29, 2026 ইং
ভূরুঙ্গামারীতে রিসিভ ছাড়া সার পরিবহনে কৃষক-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ৭ বস্তা সার জব্দ

কফিলুর রহমান (বিভাগীয় প্রধান, রংপুর): কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে রিসিভ (ক্রয় রসিদ) ছাড়া সার পরিবহনের সময় এক কৃষক ও ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ীর ৭ বস্তা সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা সারের মধ্যে ৫ বস্তা ইউরিয়া ও ২ বস্তা পটাশ রয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট২০২৬) বিকেলে উপজেলার বাগভান্ডার ক্যাম্পের (লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন-১৫ বিজিবি) সামনে দিয়ে সার পরিবহনের সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি শনিবার (২৯ আগস্ট২০২৬) প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম গ্রামের মৃত শাহেদ আলীর ছেলে মাইদুল একজন কৃষক। তিনি প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন। পাশাপাশি মইদাম বাজারে সার ও কীটনাশকের ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে নিজের জমিতে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হলেও স্থানীয়ভাবে সার না পাওয়ায় পাশের উপজেলা নাগেশ্বরীর এক আত্মীয়ের সারের দোকান থেকে ৫ বস্তা ইউরিয়া ও ২ বস্তা পটাশ সংগ্রহ করেন মাইদুল। পরে ওই সার নিয়ে ভূরুঙ্গামারীর দিকে ফেরার পথে বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পের সামনে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সার কেনার রিসিভ দেখাতে না পারায় বিজিবি সদস্যরা ৭ বস্তা সার জব্দ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার বিষয়ে মাইদুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাইদুল কৃষি জমি চাষাবাদ করেন এবং মইদাম বাজারে তার সার ও কীটনাশকের ছোট দোকান রয়েছে।
ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যায় মাইদুল প্রায় ১৫ বিঘা জমি আবাদ করেছে। পাশাপাশি সে কীটনাশকের দোকান এবং ছোট পরিসরে সার বিক্রির ব্যবসাও করে। সার আটকের পর সে জমির কাগজপত্র নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাকে সার ফেরত দেওয়া হয়নি।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন-১৫ বিজিবির বাগভান্ডার ক্যাম্পের সুবেদার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিয়মিত টহলরত অবস্থায় ক্যাম্পের সামনে রোডে সার পরিবহন পথে জিজ্ঞাসাবাদে ক্রয়ের রিসিভ না থাকায় জব্দ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
"সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬ এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত এলাকা বা উপজেলার বাইরে রসিদ ও বৈধ চালান ছাড়া সার পরিবহন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। রসিদবিহীন বা অবৈধভাবে পরিবাহিত সার 'কালোবাজারি' ও 'পাচারের মাল' হিসেবে গণ্য করে তা রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সরাসরি বাজেয়াপ্ত (ক্রোক) এবং নিলাম করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪