প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 29, 2026 ইং
চিলমারীতে বন্ধ হলো নৌপথে ফেরি চলাচল

কফিলুর রহমান (বিভাগীয় প্রধান, রংপুর):
কুড়িগ্রাম চিলমারীর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপরে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল ১৩ আগস্ট থেকে আবারও বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পরেছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক শ্রমিকসহ দুই উপজেলার স্থানীয়রা।
শনিবার ২৯ আগস্ট চিলমারীর নৌবন্দরে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় চিলমারী নদী বন্দরে একাধিক পণ্যবাহী পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের অপেক্ষা ও চরম ভোগান্তির দৃশ্য দেখা গেছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দিয়ে প্রবাহিত চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে চলা ভারি যানবাহন পারাপরের ফেরি নাব্যতা সংকটের কারণে গত ১৩ আগস্ট ফেরি চলাচল বন্ধ হয়। এরপর থেকে ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও ফেরি চলাচলের কোনো আবাস পাচ্ছেন না পণ্যবাহী পরিবহন চালক ও শ্রমিকেরা। এর ফলে চিলমারীর নৌ বন্দরে আটকা পড়েছে মালবাহী ভারি যানবাহনগুলো।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটি এর উদ্দ্যোগে চিলমারীতে ফেরি চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। শুরু দুটি ফেরি উপর দিয়ে পণ্য ও মালবাহী ভারি যানবাহন পারাপার করা হলেও পরবর্তীতে বেগম সুফিয়া কামাল ও ফেরি কুঞ্জলতা নামে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে বর্তমানে কদর ফেরিতে করে পারাপার করা হচ্ছে পণ্য ও মালবাহী ভারি যানবাহনগুলো। কিন্তু এর মধ্যে গত ১৩ আগস্ট থেকে টানা ১৫ দিন ফেরি চলাচল বন্ধের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পণ্য মালবাহী পরিবহনের চালক ও শ্রমিকরা।
এছাড়াও ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা কারণ দেখিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৪১ বার বন্ধ হয়েছে ফেরি চলাচল। দীর্ঘ সময়ের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রশ্ন উঠেছে নৌপথের স্থায়ী সমাধান নিয়ে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট থেকে প্রায় দুইশত বিঘা এলাকায় চাহিদার তুলনায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। উক্ত এলাকাগুলোতে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আরও দুটি ড্রেজার মেশিন পাঠানোর কথা জানিয়েছিল। কিন্তু এখনো তা পাঠানো হয়নি। কয়েকদিন আগে রৌমারীতে গিয়ে দেখি ঘাট এলাকার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফেরি এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
পরে দায়িত্ব প্রাপ্ত ড্রেজিং কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র পাল জানায়, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। শুধু দুইশত বিঘা এলাকায় খনন চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ফেরি সার্ভিস দ্রুত চালু ও জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, তারা বিষয়টি দেখবেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪