
ফটিকছড়িতে পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান:
কালা মোবারকসহ ৪ জন গ্রেফতার, বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
পারভেজ বাঙালী, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম দুর্ধর্ষ সহযোগী, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, দেশীয় পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা ফটিকছড়ি থানাধীন লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান চালান।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা অস্ত্রধারী মোবারক ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে পুলিশের দাবি। এ সময় আত্মরক্ষার্থে এবং পুলিশ সদস্য ও সরকারি অস্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
উদ্ধার করা হয়েছে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ
অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, একটি ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার, একটি দেশীয় পিস্তল, ১৮ রাউন্ড ৯ এমএম পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের গুলি, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্রাজিলে তৈরি ৯ এমএম তরাস পিস্তলটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে এটি অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
হত্যা মামলার সিসিটিভিতে শনাক্ত কালা মোবারক
গ্রেফতারকৃত মুহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক (৩৭) গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবারক বড় সাজ্জাদ বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বাহিনীটির প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকায়ও তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতার অপর তিনজন
অভিযানে গ্রেফতার অন্যরা হলেন—মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মোঃ ফরিদ (৫০) এবং মোঃ নাছির (৫২)। তাদের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।